শিক্ষকদের বিভিন্ন প্রশাসনিক সমস্যা দ্রুত সমাধানের নির্দেশনা দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত শিক্ষকদের যেন অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ সময় অফিসে ঘোরাফেরা করতে না হয়।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)-এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, পেনশন, ছুটি, বদলি, প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষাসংক্রান্ত বিষয়সমূহ নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে দাপ্তরিক জটিলতা কমিয়ে দ্রুত সেবা প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি বদলিতে তদবির বন্ধ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সফটওয়্যারের মাধ্যমে বদলি কার্যক্রম চালুর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন। এতে বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং অপ্রয়োজনীয় প্রভাব বা অনিয়ম কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মন্ত্রী সেবাপ্রদান প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত ও আধুনিক করতে অটোমেশন ও ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেতে পারে, যাতে সেবাপ্রার্থীরা সহজেই তাঁদের সমস্যার ধরন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ডেস্ক বা কর্মকর্তার তথ্য জানতে পারেন। একই সঙ্গে অনলাইন সেবার পরিধি আরও সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আরও বলেন, সরকারি কাজে সুষ্ঠু সমন্বয়, খোলামেলা আলোচনা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে কর্মপরিবেশ আরও কার্যকর করতে হবে। তিনি কর্মকর্তাদের নির্ভয়ে ও যুক্তির ভিত্তিতে মতামত প্রদানের আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রশাসনের অভ্যন্তরে অপ্রয়োজনীয় দূরত্ব কমিয়ে সহযোগিতামূলক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যাতে শিক্ষা খাতে সেবার গতি ও মান বৃদ্ধি পায়।
সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা অনলাইন সিস্টেম ও সফটওয়্যার ব্যবস্থাপনার কিছু সীমাবদ্ধতার বিষয় তুলে ধরেন। এ সময় মন্ত্রী দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান করে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন।