দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গণআন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর সরকার গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন নতুন প্রশাসন। সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তারেক রহমান।
সরকার গঠনের ১০০ দিনের কর্মকাণ্ডকে ঘিরে নানা আলোচনা ও কর্মসূচির তথ্য সামনে এসেছে। সরকার দাবি করছে, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে একাধিক সামাজিক ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পরিবারভিত্তিক আর্থিক সহায়তার জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষিখাতে সহায়তার জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারের দাবি অনুযায়ী, কয়েক হাজার পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে মাসিক নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র কৃষকদের ঋণ সহায়তা ও সুদ মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে খাল পুনঃখনন, বৃক্ষরোপণ এবং সবুজ কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে বড় পরিসরে বৃক্ষরোপণ ও খাল খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
সরকার জ্বালানি সংকট, স্বাস্থ্যখাতের চ্যালেঞ্জ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছে। তবে এসব ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, রাষ্ট্রীয় ব্যয় সাশ্রয় এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর জীবনযাপন ও সরকারি কার্যক্রমে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
সরকারের নীতি ও আদর্শিক দিকনির্দেশনায় বিভিন্ন ঐতিহাসিক নেতৃত্বের উদাহরণ টানা হয়েছে, যার মধ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর ভূমিকা এবং বৈশ্বিক নেতা যেমন নেলসন ম্যান্ডেলা ও লি কুয়ান ইউ-এর নেতৃত্বের প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, প্রশাসনিক বৈঠক, নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সংসদীয় কার্যক্রমের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় গতি আনা হয়েছে। পাশাপাশি সংসদকে কার্যকর ও প্রাণবন্ত করার ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন ও এর ফলাফল সময়ের সঙ্গে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন হবে।