কোনো প্রকার জেনেটিক পরিবর্তন ছাড়া প্রাকৃতিক ও পুষ্টিসম্পন্ন ঘাস খাওয়ানো গবাদিপশুর মাংস আগামী তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশ রপ্তানি করবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
বুধবার (২০ মে) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) ও অস্ট্রেলিয়ার চার্লস স্টার্ট ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ রিসার্চ শোকেস’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সেমিনারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘জলবায়ু সহনশীল খাদ্য ব্যবস্থা-ব্যবহারিক সমাধান ও অংশীদারিত্ব’।
মন্ত্রী বলেন, বিশ্বে নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যের চাহিদা বাড়ছে। জেনেটিক মোডিফাইড ফুড বৈশ্বিক কল্যাণে প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি জানান, গবেষণার মাধ্যমে নেপিয়ার ঘাসের উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ (প্রায় ১৮ শতাংশ) ও খরা-সহিষ্ণু জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে, যা গবাদিপশুর খাদ্য ব্যয় কমাতে সহায়ক হবে। এর ফলে মাংস উৎপাদন খরচ কমে সাধারণ মানুষের জন্য দামও তুলনামূলকভাবে সহনীয় পর্যায়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আরও বলেন, আধুনিক গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে গবেষকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ বৃদ্ধির ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, প্রাণিখাদ্য উৎপাদন খরচ কমাতে পারলে মাংস উৎপাদনের ব্যয়ও কমবে এবং ভোক্তাদের জন্য তা সহজলভ্য হবে।
বিএলআরআই মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিদেশি কূটনীতিক, গবেষক ও বিভিন্ন পর্যায়ের বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনারে টেকসই প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশবান্ধব মাংস উৎপাদন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।