লক্ষ্মীপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট করে যারা বিদেশে পাচার করেছে, জামায়াত ক্ষমতায় এলে তাদের কাছ থেকে সেই অর্থ উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “অতীতে যারা রাষ্ট্রের সম্পদ চুরি করেছে, আমরা ক্ষমতায় গেলে সেখান থেকেই তা বের করে আনবো।”
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে লক্ষ্মীপুর শহরের আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের অর্থের পাই-পাই হিসাব জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, মেঘনা নদীর বাঁধ নির্মাণের জন্য বরাদ্দ বাজেট নদীর পাড়ে না গিয়ে দুর্নীতিবাজদের পেটে চলে গেছে। “আমরা সেই বাজেট নদীর পাড়ে নিয়ে যাবো। কারো পেটের ভেতরে ঢুকতে পারবে না,”—বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, যারা প্রকল্পে কাজ করবে তারা ন্যায্যভাবে পারিশ্রমিক পাবেন, কেউ চুরি করতে পারবে না। ন্যায্যতার ভিত্তিতে সারা দেশে উন্নয়ন করা হবে এবং কোনো এলাকার প্রতি বৈষম্য করা হবে না। বঞ্চিত অঞ্চল চিহ্নিত করে বিশেষ উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
জামায়াত আমির বলেন, জনগণ যদি পবিত্র ও মূল্যবান ভোট দিয়ে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যকে নির্বাচিত করে, তবে জামায়াত তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে এবং জাতিকে আর বিভক্ত হতে দেবে না। পুরোনো রাজনৈতিক বিভাজন ও কাদা ছোড়াছুড়ির রাজনীতি থেকে দেশকে বের করে এনে যুবকদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।
তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ভোটের মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশের সব নাগরিকের সম্মান, জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সমান অধিকার থাকবে এবং প্রত্যেকে নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করতে পারবে। অতীতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান লক্ষ্মীপুর-১ আসনের শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী মাহবুব আলম, লক্ষ্মীপুর-২ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী রুহুল আমিন ভূঁইয়া, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের প্রার্থী ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম এবং লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের প্রার্থী হাফিজ উল্যাহর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রতীক তুলে দেন।
তিনি যুব সমাজ প্রসঙ্গে বলেন, বেকার ভাতা দিয়ে নয়, দক্ষতা সৃষ্টি করে যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অধিকাংশ প্রার্থী তরুণ হওয়ায় এটি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গঠনে যুব নেতৃত্বের বার্তা দেয়।
নারী নিরাপত্তা ও আইনের শাসনের বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, দেশে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে না। অপরাধী যে-ই হোক, তার শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও বলেন, গত ৫৪ বছরের রাজনৈতিক বন্দোবস্ত থেকেই দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দমন-পীড়নের জন্ম হয়েছে, সেই রাজনীতি আর ফিরে আসতে দেওয়া হবে না।
জেলা জামায়াতের আমির রুহুল আমিন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান এটিএম মাসুম, সদস্য ডা. আনোয়ারুল আজিম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি আতিকুর রহমান, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, শিবিরের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ সাহেদী, জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম, চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব ও চাকসুর ভিপি ইব্রাহীম হোসেন রনি।