ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় এশিয়ার দেশগুলোকে ১০ বিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে জাপান। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকের পর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই সহযোগিতা কাঠামোর ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে জাপান সরবরাহ শৃঙ্খলের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং পারস্পরিক নির্ভরশীলতা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত তেল ও গ্যাসের বড় অংশই এশিয়ার দেশগুলোর জন্য নির্ধারিত।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর প্রায় এক বছরের তেল আমদানির সমপরিমাণ।
এই উদ্যোগকে বাংলাদেশসহ ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ স্বাগত জানিয়েছে।
অর্থায়নে জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন, নিপ্পন এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইন্স্যুরেন্স, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যুক্ত থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি জানিয়েছেন, এই উদ্যোগ জাপানের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।
বর্তমানে জাপানের তেল মজুত দিয়ে ২৫৪ দিনের চাহিদা পূরণ সম্ভব হলেও বৈশ্বিক সংকটের কারণে দেশটি ইতোমধ্যে মজুত থেকে তেল ছাড়তে শুরু করেছে। গত মাসে রেকর্ড ৫০ দিনের সমপরিমাণ তেল বাজারে ছাড়ার পর আগামী মাসেও আরও সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে জ্বালানি সংকট ও তেলের দাম বৃদ্ধিতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে উদ্বেগ বাড়ছে। ফিলিপাইন ইতোমধ্যে জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে এবং কিছু দেশে জ্বালানি সাশ্রয়ের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফের্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র এশীয় দেশগুলোর মধ্যে জ্বালানি ভাগাভাগি চুক্তি সক্রিয় করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন,
“এশিয়ার কোনো একক দেশের পক্ষে এই বড় সরবরাহ সংকট একা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।”