রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকার শারমিন একাডেমিতে চার বছরের এক শিশুকে নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেপ্তার স্কুলটির ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার বড়ুয়ার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ রিমান্ডের এ আদেশ দেন।
এর আগে গত ২২ জানুয়ারি রাতে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নূর ইসলাম।
তবে ওইদিন তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে উপস্থিত না থাকায় রিমান্ড শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করে আসামিকে কারাগারে পাঠান মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ। পরে রিমান্ড শুনানির জন্য তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
রিমান্ড শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, ভর্তি হওয়ার সাত দিনের মাথায় চার বছরের শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। শিশুটির মুখে স্ট্যাপলার ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও উপস্থাপন করেন।
আদালত এ সময় শারমিন একাডেমির প্রিন্সিপাল শারমিন জাহানের অবস্থান জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, তাকে এখনো পাওয়া যায়নি। তিনি আরও বলেন, ওই প্রতিষ্ঠানে আরও প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী রয়েছে এবং অন্য শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তদন্তে আসামির রিমান্ড প্রয়োজন।
শুনানিতে আসামি পবিত্র কুমার বড়ুয়া নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে আদালতকে বলেন, তিনি শিশুটিকে মারেননি। তবে বিচারক তাকে প্রশ্ন করেন, তিনি যেহেতু স্কুলের অ্যাডমিন, শিক্ষক নন, তাহলে শাসন করার অধিকার কোথা থেকে পেলেন। এ সময় আসামি দাবি করেন, শিশুটি অন্য শিক্ষার্থীর দিকে থুতু ছুড়েছিল এবং তিনি শুধু নিষেধ করেছিলেন।
আদালত তাকে স্ট্যাপলার ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি তা অস্বীকার করেন। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, রাজধানীর নয়াপল্টনের শারমিন একাডেমির প্লে শ্রেণিতে প্রায় দুই মাস আগে ভুক্তভোগী শিশুটিকে ভর্তি করান তার মা। গত ১১ জানুয়ারি থেকে শিশুটির ক্লাস শুরু হয়। ঘটনার দিন ১৮ জানুয়ারি সকালে শিশুটিকে স্কুলে রেখে যান মা। দুপুরে স্কুলে গিয়ে তিনি দেখতে পান, প্রিন্সিপাল শারমিন জাহান শিশুটির হাত জোর করে চেপে ধরে রেখেছেন এবং তার স্বামী পবিত্র কুমার বড়ুয়া চেয়ারে বসে আছেন।
এ সময় শিশুটিকে বিবর্ণ, ভীতসন্ত্রস্ত ও কান্নারত অবস্থায় দেখতে পান মা। পরে শিশুটিকে বাসায় নিয়ে গেলে সে বারবার কান্না করে জানায়, স্কুলে তাকে মারধর করা হয়েছে এবং কাউকে বললে গলায় দড়ি দেওয়ার ও মুখ সেলাই করে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়েছে।
পরবর্তীতে বাদিনী স্বামীসহ স্কুলে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেন। ফুটেজে দেখা যায়, প্রিন্সিপাল শারমিন জাহান শিশুটিকে অফিসে নিয়ে গিয়ে শারীরিকভাবে আঘাত করেন এবং তার স্বামী পবিত্র কুমার বড়ুয়া শিশুটির মুখে স্ট্যাপলার ঢুকিয়ে দেন ও মারধর করেন।
নির্যাতনের ফলে শিশুটির মাথা, গলা ও কানে তীব্র ব্যথা হয় এবং সে কানে কম শুনতে পায়। পরে শিশুটিকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটির মা শারমিন ফেরদৌসী বাদী হয়ে গত ২২ জানুয়ারি পল্টন থানায় পবিত্র কুমার বড়ুয়া ও তার স্ত্রী শারমিন জাহানের বিরুদ্ধে শিশু আইনে মামলা করেন।