রামিসা হত্যা মামলায় ১৬ সাক্ষীর ভয়াবহ বর্ণনা আদালতে

স্টাফ রিপোর্টার
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার আলোচিত মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন ভিকটিমের বাবা-মা, স্বজন, প্রতিবেশী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা। তাদের বর্ণনায় উঠে এসেছে ঘটনার বিভীষিকাময় ও হৃদয়বিদারক বিবরণ।

মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এদিন ভিকটিমের বাবা-মা ও বড় বোনসহ মোট ১৬ জন সাক্ষ্য দেন।

সাক্ষ্যে ভুক্তভোগীর বাবা ও মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা আদালতকে জানান, ঘটনার দিন সকালে তিনি অফিসে ছিলেন। পরে স্ত্রী ফোন করে দ্রুত বাসায় আসতে বলেন। বাসায় ফিরে তিনি দেখেন ভবনের সামনে ভিড় জমে আছে এবং পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়।

তিনি আরও বলেন, ভেতরে প্রবেশ করে টয়লেটের সামনে রক্তের চিহ্ন দেখতে পান এবং পরে ভয়াবহ ঘটনার বিষয়টি বুঝতে পারেন।

ভিকটিমের মা পারভীন আক্তার আদালতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, রান্নার সময় তিনি একটি চিৎকার শুনেছিলেন, তবে সেটি অন্য কোনো শিশুর হতে পারে ভেবে গুরুত্ব দেননি। পরে মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে ভবনের বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেন। একপর্যায়ে পাশের ফ্ল্যাটের সামনে মেয়ের একটি জুতা দেখতে পান।

তিনি আরও বলেন, বারবার দরজা খুলতে অনুরোধ করলেও ভেতর থেকে কেউ সাড়া দেয়নি। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে রক্তাক্ত পরিস্থিতি দেখতে পান এবং তার সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সাক্ষ্যে ভিকটিমের চাচা-মামা ও প্রতিবেশীরাও ঘটনার বর্ণনা দেন। তাদের অনেকে বলেন, খাটের নিচে বালতির ভেতরে শিশুটির মাথা এবং দেহাংশ পাওয়া যায়। কেউ কেউ ঘটনাস্থলে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে জানালা দিয়ে পালিয়ে যেতে দেখেন বলেও আদালতে জানান।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী আদালতে বলেন, তিনি একজন ব্যক্তিকে জানালা বেয়ে নামতে দেখেছিলেন, যাকে পরে আসামি হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, সাক্ষীদের বক্তব্যে মামলার গুরুত্বপূর্ণ ও ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে, যা বিচার প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে।

সম্পর্কিত