ঢাকা, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর গুমের ঘটনার তদন্ত জোরালোভাবে চলছে। তদন্ত শেষে শিগগিরই প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
এছাড়া ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা ১০১টি গুমের অভিযোগের তদন্তও সমান্তরালভাবে এগিয়ে চলছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, গুম সংক্রান্ত এসব অভিযোগের তদন্ত গুরুত্বসহকারে করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষ হলে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ প্রসঙ্গ
২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাতে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে সালাহউদ্দিন আহমদকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ করেন তার স্ত্রী হাসিনা আহমদ। সে সময় তিনি বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
পরে একই বছরের ১১ মে ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ভারতে প্রবেশের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ২০১৮ সালে নিম্ন আদালতে তিনি খালাস পান এবং ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আপিলেও খালাস পান।
এরপর ২০২৩ সালের ১১ আগস্ট তিনি দেশে ফেরেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৫ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। ওই অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়।
ইলিয়াস আলী প্রসঙ্গ
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী ২০১২ সালের এপ্রিলে ঢাকার বনানী এলাকা থেকে নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
তিনি সিলেট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
গত বছরের ৯ জানুয়ারি বিএনপির পক্ষ থেকে ইলিয়াস আলীসহ ১৫৩ জনকে গুম এবং ২ হাজার ২৭৬ জন নেতাকর্মীকে ক্রসফায়ারে হত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করা হয়।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত ওই অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।
ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।