জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান চলাকালে নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বুধবার (১৩ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ এ আদেশ দেওয়া হয়।
এছাড়া প্রসিকিউশনের উদ্বোধনী বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১০ জুন দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে গত ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয়।
গত ১৯ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করে প্রসিকিউশন। তাদের দাবি, জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থান দমনে অস্ত্র হাতে নিয়ে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের সাবেক এমপি শামীম ওসমান।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ছাত্র-জনতাকে হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গে তিনি সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন এবং নিজেও অস্ত্র হাতে গুলি চালান।
মামলায় আনা প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার চাষাঢ়া, ফতুল্লা থানাধীন সাইনবোর্ড ও আশপাশের এলাকায় কিশোর আদিল, ইয়াছিন, শিক্ষার্থী পারভেজ, পোশাককর্মী রাসেল ও ছয় বছরের শিশু রিয়া গোপসহ ছয়জনকে হত্যা করা হয়।
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, ২১ জুলাই ফতুল্লা থানাধীন ভূইগড় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আবদুর রহমান ও মোহাম্মদ রাকিবকে হত্যা করা হয়।
তৃতীয় অভিযোগ অনুযায়ী, ৫ আগস্ট বদিউজ্জামান ও আবুল হাসানকে হত্যা করা হয়।
প্রসিকিউশনের দাবি, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের অনুমতি নিয়ে নিজের সশস্ত্র বাহিনী এবং মামলার অন্য আসামিদের সঙ্গে নিয়ে নারায়ণগঞ্জে হত্যাকাণ্ড পরিচালনা করেন শামীম ওসমান।
এ মামলায় শামীম ওসমানের ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমানসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীকেও আসামি করা হয়েছে। তবে মামলার সব আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ ও ২১ জুলাই এবং ৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা, চাষাঢ়া ও সাইনবোর্ড এলাকায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে।