চামড়া খাতকে মাল্টি বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি খাতে পরিণত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্য এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একই সঙ্গে চামড়া শিল্পে নতুন বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদের আকৃষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিলেট সার্কিট হাউসে সিলেটের চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তরের সময় যেসব ট্যানারি যথাযথভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেনি বা ব্যবসা শুরু করতে ব্যর্থ হয়েছে, সেসব সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠানকে অর্থায়নের মাধ্যমে আবারও ব্যবসায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি জানান, চামড়া শিল্পের বিভিন্ন সমস্যা ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ খাতের সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সঙ্গে একাধিক বৈঠকও করা হয়েছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সাভারে অবস্থিত সেন্ট্রাল এফলুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের (সিইটিপি) কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য বিশ্বব্যাংক ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় একটি ইতালীয় কোম্পানি সমীক্ষা পরিচালনা করছে। আগামী ঈদের দুই সপ্তাহ পর এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটির দৈনিক পরিশোধন সক্ষমতা ২৫ হাজার কিউবিক মিটার হলেও বাস্তবে তা ১৪ থেকে ১৭ হাজার কিউবিক মিটারের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। সেটিকে পূর্ণ সক্ষমতায় উন্নীত করতে কাজ চলছে। পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় ক্রোমিয়াম পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হচ্ছে।
সিলেট থেকে চামড়া পাচার হয় না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সংরক্ষণ ও লজিস্টিক সমস্যার সমাধান করা গেলে চামড়া খাত দেশের অর্থনীতির বড় খাতে পরিণত হতে পারে।
তিনি বলেন, কোরবানির ঈদের সময় সাভারে অতিরিক্ত চাপ কমাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে লবণ ব্যবহার করে চামড়া সংরক্ষণের ব্যবস্থা বাড়াতে হবে। এতে ১০ থেকে ১৫ দিন বা এক মাস পরও চামড়া পাঠানো সম্ভব হবে এবং সারা বছর এসব চামড়া ব্যবহারে সুবিধা হবে।
মতবিনিময় সভায় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদি, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ চামড়া ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।