রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যাংক খাত চান গভর্নর

স্টাফ রিপোর্টার
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, দেশের আর্থিক খাতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব থাকা উচিত নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ব্যাংকিং খাতকে নিরপেক্ষ ও পেশাদার রাখতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

রোববার (২৯ মার্চ) ঢাকায় বাংলাদেশ ব্যাংক-এর কনফারেন্স কক্ষে সংবাদমাধ্যমের বিজনেস এডিটর, সিনিয়র সাংবাদিক ও ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

গভর্নর জানান, বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ব্যাংকগুলোকে সহায়তা দিয়ে উৎপাদনমুখী খাতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে, যাতে উদ্যোক্তারা পুনরায় কার্যক্রম শুরু করে ঋণ পরিশোধ করতে পারেন এবং অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি বাড়ে।

তিনি বলেন, ‘কিছু কারখানা আগেই বন্ধ ছিল, ৫ আগস্টের পর আরও কিছু বন্ধ হয়েছে। এগুলোকে কীভাবে উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা যায়, সেটাই এখন আমাদের লক্ষ্য।’

পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে গভর্নর বলেন, বৈশ্বিকভাবে এ ধরনের অর্থ উদ্ধারের সাফল্য সীমিত হলেও বাংলাদেশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্পদ পুনরুদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠান ও মামলা অর্থায়ন সংস্থার সহায়তায় এ লক্ষ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্টার্টআপ খাতে কর্মসংস্থান বাড়াতে ৬০০ কোটি টাকার একটি তহবিল চালুর কথাও জানান তিনি। এ তহবিল থেকে জুন মাস থেকে ঋণ বিতরণ শুরু হবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ানো জরুরি। এ জন্য গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষিখাতে সহায়তা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে গভর্নর জানান, পেশাদার ব্যাংকার নিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবার মান উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও ইরান-কেন্দ্রিক পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবেলায় প্রস্তুতির কথাও তুলে ধরেন তিনি। গভর্নর বলেন, আমদানি ব্যয় মেটাতে পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে এবং বিনিময় হার স্থিতিশীল রয়েছে।

তিনি জানান, অর্থনৈতিক চাপ মোকাবেলায় ২ বিলিয়ন ডলারের ঋণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রেমিট্যান্স ২ থেকে ২.৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে জুন মাসে ১.৫ বিলিয়ন ডলারের একটি কিস্তি পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

তবে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেন গভর্নর। এতে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকরা দেশে ফিরে আসতে পারেন, যা রেমিট্যান্স কমানোসহ অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

রাজস্ব আদায় বাড়াতে আগামী ১ জুলাই থেকে বাংলা কিউআর কোড ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি কৃষিঋণ সম্প্রসারণ ও নতুন পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্পর্কিত