বিদায়ী এপ্রিল মাসে সড়ক, নৌ ও রেলপথে মোট ৫০৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ৪৩৪ জন নিহত এবং ৭৩৭ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
বুধবার (৬ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন সংবাদপত্র, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং সংগঠনের নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু সড়ক দুর্ঘটনাই ঘটেছে ৪৬৩টি, যেখানে প্রাণ হারিয়েছেন ৪০৪ জন এবং আহত হয়েছেন ৭০৯ জন।
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ছিল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর। এপ্রিলে ১৪২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১১৩ জন, যা মোট নিহতের প্রায় ২৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ। মোট দুর্ঘটনার মধ্যে মোটরসাইকেল সংশ্লিষ্ট ঘটনা ছিল প্রায় ৩০ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
এ ছাড়া পথচারী নিহত হয়েছেন ১০২ জন, যা মোট নিহতের প্রায় ২৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৪৬ জন।
ভৌগোলিক হিসাবে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে। সেখানে ১০৯টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১০২ জন। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা হয়েছে সিলেট বিভাগে, যেখানে ১২টি দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হয়েছেন।
রাজধানী ঢাকায় ৩৬টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত এবং ৬৭ জন আহত হয়েছেন।
নৌ ও রেল দুর্ঘটনাও উল্লেখযোগ্য। এ সময়ে ৭টি নৌ দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ৩৪টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক অবকাঠামো, বেপরোয়া গতি, চালকদের অসতর্কতা ও অদক্ষতা, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহনের চলাচল, তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ মোটরসাইকেল চালনা, ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, সংশ্লিষ্ট সংস্থার সক্ষমতার ঘাটতি এবং পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি।