হরতাল-অবরোধের প্রস্তুতি রয়েছে: নাহিদ ইসলাম

স্টাফ রিপোর্টার
 ছবি: নাহিদ ইসলাম
ছবি: নাহিদ ইসলাম

সরকার গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে গণআন্দোলন, এমনকি গণঅভ্যুত্থানের দিকেও যেতে হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, প্রয়োজনে হরতাল ও অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচিও দেওয়া হবে।

শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে বরিশাল নগরীর ভাটারখাল এলাকায় কেন্দ্রীয় ঈদগাহে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত তারা কোনো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করেননি। তবে সরকারের অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি সেদিকে যাচ্ছে এবং যে কোনো সময় হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে গণভোট ও জুলাই সনদের পক্ষে প্রচারণা চালালেও সরকার গঠনের পর গণভোটে দেওয়া জনগণের রায় বাস্তবায়ন করছে না। অথচ মুখে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

বিএনপির সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, দলটি দীর্ঘদিন গণতন্ত্রের কথা বললেও বর্তমানে গণতন্ত্র ও সংস্কারের প্রশ্নে অবস্থান পরিবর্তন করেছে। তিনি দাবি করেন, বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফার প্রথম দফাতেই সংবিধান সংস্কারের কথা উল্লেখ থাকলেও এখন তারা সে অবস্থান থেকে সরে এসেছে।

সংবিধান সংশোধন কমিটির সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কারের নামে কোনো প্রহসন জনগণ মেনে নেবে না। সরকার সংস্কারে রাজি না হলে নতুন সংবিধান প্রণয়ন এবং গণপরিষদ নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলেও জানান তিনি।

বরিশাল অঞ্চলের কর্মসংস্থান সংকটের প্রসঙ্গ তুলে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। বরং চাঁদাবাজি বেড়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য ছিল কর্মসংস্থান, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি নির্মূল, সীমান্ত সুরক্ষা, গণতন্ত্র এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে আবারও ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বরিশাল অঞ্চলের পরিচালক অ্যাডভোকেট মুয়ায্যম হোসাইন হেলাল। এছাড়া ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।a

সম্পর্কিত