লক্ষ্মীপুর-১ আসনে এনসিপি প্রার্থী ঘোষণায় জামায়াতে অসন্তোষ

রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
 ছবি: জামায়াতের প্রার্থী নাজমুল হাসান পাটোয়ারী ও এনসিপির প্রার্থী মাহবুব আলম
ছবি: জামায়াতের প্রার্থী নাজমুল হাসান পাটোয়ারী ও এনসিপির প্রার্থী মাহবুব আলম

লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা মাহবুব আলমের নাম ঘোষণার পর স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এ আসনে দীর্ঘদিন ধরে মাঠে কাজ করে আসা উপজেলা জামায়াতের আমির নাজমুল হাসান পাটোয়ারীকে বাদ দিয়ে নতুন প্রার্থী ঘোষণায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

স্থানীয় জামায়াত নেতারা দাবি করছেন, লক্ষ্মীপুর-১ আসনে জামায়াতের শক্ত সাংগঠনিক ভিত্তি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কর্মসূচি, ওয়ার্ডভিত্তিক কমিটি ও ভোটার যোগাযোগ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন নাজমুল হাসান পাটোয়ারী। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী জাকির হোসেনও দীর্ঘ সময় ধরে মাঠ গোছাচ্ছেন। পাশাপাশি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পর্যায়ের পরিচিত নেতা শাহাদাত হোসেন সেলিম নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

তৃণমূল জামায়াত নেতাকর্মীদের অভিযোগ,

এনসিপির প্রার্থী মাহবুব আলম রামগঞ্জে নতুন মুখ এবং এখনও জনসমর্থন বা রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে পারেননি। তারা আশঙ্কা করছেন, মাহবুব আলম প্রার্থী থাকলে আসনটি হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে লক্ষ্মীপুর-১ আসনের প্রার্থী তালিকা পুনর্বিবেচনার দাবি উঠেছে।

জামায়াতের একাধিক নেতাকর্মী অভিযোগ করে বলেন, মাহবুব আলম একসময় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সে সময়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখনও দেখা যায়। তার বাবা আজিজুর রহমান ইছাপুর ইউনিয়ন বিএনপির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক বলেও দাবি করেন তারা। এছাড়া মাহবুবের ভাই তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের অতীতে জামায়াতবিরোধী মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এসব বিষয় সামনে এনে তারা বলেন, “এ পর্যায়ে এসে তাকে জোটের প্রার্থী ঘোষণা করায় আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। আমরা বিষয়টি মেনে নিতে পারছি না।”

জামায়াতের নেতাকর্মীরা আরও বলেন,

“রামগঞ্জ আসন আমাদের হাতে গড়া। আমরা ঘরে ঘরে দাঁড়িপাল্লার জন্য কাজ করেছি। হঠাৎ করে অন্য একজন এসে আমাদের সংগঠিত মাঠে নির্বাচন করবে—এটি মেনে নেওয়া কষ্টকর।”

তরুণ ভোটার ওয়াছি উদ্দীন বলেন, “জোট করলেই কি অতীত মুছে যায়? মাহবুব আলম নিজের ঘরের ভোটই পাবেন না। তার সম্পদের হিসাব নিয়েও প্রশ্ন আছে। মাঠে তার এজেন্ট দেওয়ার মতো লোক নেই। তিনি নির্বাচন করলে জামানত হারাবেন।”

জামায়াত কর্মী মাওলানা আব্দুস সাত্তার বলেন, “নাজমুল হাসান পাটোয়ারীর গ্রামে গ্রামে, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে পরিচিতি আছে। অথচ মাহবুব আলমকে মানুষ চেনে না। আমাদের কর্মীরা তার হয়ে কাজ করবে না। আমরা চাই নাজমুল হাসানকেই প্রার্থী করা হোক।”

উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি মাওলানা আবু সালেহ বলেন, “জামায়াতে ইসলামী স্বাধীনতার পর থেকে এখানে সাংগঠনিকভাবে কাজ করছে। কিন্তু এনসিপির মাঠপর্যায়ের সমর্থন প্রায় নেই। তাই আমরা আশা করব, মাহবুব আলম জামায়াত প্রার্থীকে সমর্থন করবেন।”

তবে রামগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ এমরান হোসেন বলেন, “তৃণমূলে ক্ষোভ আছে—এটি সত্য। কিন্তু বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতায় জোটের সিদ্ধান্ত মানতেই হবে। সংগঠন হিসেবে জামায়াত শৃঙ্খলার বাইরে যাবে না।”

এ বিষয়ে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম বলেন,

“জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির যে জোট হয়েছে, সেখানে আমরা ৩০টি আসনে নির্বাচন করব। লক্ষ্মীপুর-১ তার অন্যতম। আমরা আশা করি, জোটের সব শরিক আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন এবং এই আসনে আমরা জয় উপহার দিতে পারব।”

অন্যদিকে লক্ষ্মীপুর-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী নাজমুল হাসান পাটোয়ারী বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলে কাজ করেছি। মাঠ গোছানো, কেন্দ্র প্রস্তুত, কর্মীরা সক্রিয়। আমাদের ঘাঁটিতে অন্য কেউ এসে নির্বাচন করবে—এটি তৃণমূলের জন্য মানিয়ে নেওয়া কঠিন।”

সম্পর্কিত