জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিতে অস্ত্রধারী দেহরক্ষী (গানম্যান) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে তাঁর বাসভবনের নিরাপত্তায় পোশাকধারী সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) এ বিষয়ে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সদর দপ্তরকে নির্দেশ দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের ক্ষেত্রে উচ্চমাত্রার নিরাপত্তা ঝুঁকি ও হুমকি বিদ্যমান। এ কারণে তাঁর ব্যক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অস্ত্রধারী দেহরক্ষী নিয়োগ এবং বাসভবনের নিরাপত্তার জন্য পোশাকধারী সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েনের ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এর আগে গত ১৭ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে শফিকুর রহমানের জন্য সার্বক্ষণিক গানম্যান ও বাসভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়। দলের অফিস সেক্রেটারি আ ফ ম আবদুস সাত্তার ওই আবেদন করেন। যাচাই-বাছাই শেষে সরকার এ সিদ্ধান্ত নেয়।
এই সিদ্ধান্তের ফলে জামায়াতে ইসলামীর আমিরসহ এখন পর্যন্ত চারজন রাজনৈতিক নেতাকে গানম্যান দেওয়া হলো। এর আগে চরমোনাই পীর ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি এবং বিএনপি নেতা মাসুদ অরুণ অস্ত্রধারী দেহরক্ষী পেয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রায় ২০ জন রাজনীতিবিদ অস্ত্রের লাইসেন্স ও অস্ত্রধারী দেহরক্ষী চেয়ে আবেদন করেন। কারও ক্ষেত্রে দলীয়ভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চিঠিও দেওয়া হয়েছিল। এসব আবেদনের বিষয়ে পর্যায়ক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের অনুকূলে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ও রিটেইনার নিয়োগ নীতিমালা–২০২৫’ জারি করে। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের জন্য এই নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। নীতিমালা জারির পর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।