সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে চাঁদা না পেয়ে যুবদল নেতার নেতৃত্বে এক যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধার বসতঘর ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ঘরের আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
রোববার (১৫ মার্চ) দুপুরে উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে দাবি করেছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন রানীগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, সিহাব মিয়া ও মজনু মিয়ার লোকজন।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত আব্দুল্লাহ খান স্বাধীনতার পর থেকে ইসলামপুর গ্রামের একটি সরকারি জায়গায় পরিবারসহ বসবাস শুরু করেন। পরে সরকার ওই জায়গাটি তার নামে ৯৯ বছরের জন্য বন্দোবস্ত দেয়।
অভিযোগ রয়েছে, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে ওই জায়গা দখলের চেষ্টা শুরু করেন নিজাম উদ্দিন। একপর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধার বড় ছেলে আব্দুল গফফারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
রোববার দুপুরে অভিযুক্তরা দলবল নিয়ে এসে বসতঘরে হামলা চালিয়ে ঘরটি ভেঙে ফেলে এবং ঘরের আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন আব্দুল গফফার। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আব্দুল গফফার বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে তারা জায়গাটি দখলের চেষ্টা করছে। থানায় লিখিত অভিযোগও দিয়েছি। চাঁদা না দেওয়ায় আমাদের ঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এখন আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল নেতা নিজাম উদ্দিন বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমি ঘটনাস্থলে যাইনি।”
জগন্নাথপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাদী আব্দুল্লাহ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের লিজ নেওয়া ঘরটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে