ফসল তোলার মৌসুমে প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে ওঠার কথা থাকলেও অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে দেশের সাত জেলার হাওরাঞ্চলে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সুনামগঞ্জ, সিলেট, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের হাওরে এখন নেমে এসেছে হতাশা ও হাহাকার।
কৃষি বিভাগ, পরিবেশকর্মী ও কৃষক সংগঠনের হিসাবে এবার অন্তত এক লাখ হেক্টর জমির বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় দেড় লাখ কৃষক পরিবার নিঃস্ব হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে।
হাওরের বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, ধান মাড়াইয়ের খোলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টির আগে কাটা ধানের স্তূপে অঙ্কুর গজিয়ে পচন ধরেছে, যা এখন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
ক্ষতি মোকাবিলায় কৃষি বিভাগ থেকে সাত জেলায় ১১ হাজার ধান শুকানোর যন্ত্র (ড্রায়ার) দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলেও রোববার পর্যন্ত কোথাও তা পৌঁছেনি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এদিকে ফসল নষ্ট হওয়ার শোকে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে কৃষক আক্তার হোসেন (৫৮) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ঋণের চাপে থাকা এ কৃষকের মৃত্যু এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। উপজেলা প্রশাসন তার পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা সহায়তা দিয়েছে।
ধান কাটার শ্রমিক সংকটও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। কৃষকদের অভিযোগ, শুরুতে পর্যাপ্ত কম্বাইন হার্ভেস্টার না পাওয়া এবং পরে প্রভাবশালী মহলের কারণে যন্ত্রের সুবিধা বড় কৃষকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। অন্যদিকে শ্রমিক সংকটের সুযোগে দিনমজুররা অতিরিক্ত মজুরি দাবি করলেও প্রয়োজনীয় শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।
কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার কৃষকরা জানান, পর্যাপ্ত শ্রমিক থাকলে ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব হতো। অনেক জায়গায় কোমরসমান পানিতে ডুবে থাকায় যন্ত্রও ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে হাওরে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে সুনামগঞ্জে ধান কাটা ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, বাস্তবতার সঙ্গে মিল না রেখে কৃষি বিভাগ মনগড়া প্রতিবেদন দিয়েছে। তবে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।