পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার প্রকল্প পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে দেশের ২৬ জেলার ১৬৩টি উপজেলা সরাসরি উপকৃত হবে। একই সঙ্গে দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষ এ প্রকল্পের সুফল ভোগ করবে।
রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট দেশের মানুষের কল্যাণ এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই প্রণয়ন করা হয়েছে। মাত্র চার মাসের মধ্যে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জনকল্যাণমুখী বাজেট প্রণয়ন করায় তিনি প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ই-হেলথ কার্ড, ইমাম-পুরোহিতদের ভাতা এবং খালকাটা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উদ্যোগ জনগণের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শিক্ষা খাতে সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রীদের বিনা বেতনে লেখাপড়ার সুযোগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে শিক্ষার প্রসারে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। শিক্ষা খাতে প্রস্তাবিত বরাদ্দ দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পানিসম্পদ খাতের অগ্রাধিকার তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফারাক্কা বাঁধ, পদ্মা ব্যারেজ এবং তিস্তা ব্যারেজ বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার প্রকল্প। ফারাক্কার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে সরকারের টেকনিক্যাল কমিটি কাজ করছে।
তিনি জানান, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প ইতোমধ্যে একনেকের অনুমোদন পেয়েছে। প্রথম ধাপে ১৯ জেলার ১২০টি উপজেলা উপকৃত হবে। আর প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে দেশের ২৬ জেলার ১৬৩টি উপজেলা এবং প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষ এর সুফল পাবে।
তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের অন্তত পাঁচটি জেলার কৃষি, সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
এ সময় তিনি পঞ্চগড়কে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। পাশাপাশি পঞ্চগড় বাইপাস সড়ক নির্মাণ এবং দেবীগঞ্জে একটি এগ্রো জোন প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আঞ্চলিক ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নের জন্য এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।