ইনসাফ ও প্রতিবাদের কবি সীমান্ত শরিফ ওরফে শরিফ ওসমান হাদি: জীবন, লড়াই ও ‘লাভায় লালশাক পুবের আকাশ’

 ছবি:
ছবি:

ঝালকাঠির নলছিটিতে জন্ম নেওয়া সীমান্ত শরিফ, যিনি সাহিত্যাঙ্গনে পরিচিত শরিফ ওসমান হাদি নামে, ছিলেন ইনসাফ, সংগ্রাম ও মুক্তির স্বপ্নে বিশ্বাসী এক প্রতিবাদী কণ্ঠ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করা এই কবি জুলাই অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ প্রতিষ্ঠা করেন এবং সংগঠনটির মুখপাত্র হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

নিপীড়িত মানুষের পক্ষে লেখালেখিই ছিল তার কবিতার মূল শক্তি। জীবদ্দশায় প্রকাশিত তার একমাত্র কাব্যগ্রন্থ ‘লাভায় লালশাক পুবের আকাশ’ পাঠক ও সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। লেখক দীপ্র হাসান বইটি সম্পর্কে মন্তব্য করেন—এটি যৌবন, জীবন ও ইনসাফের কবিতা; রক্তমাতাল সভ্যতার দিকে নিক্ষিপ্ত এক মলোটভ ককটেল।

এই কাব্যগ্রন্থে পরাধীন বাংলার বেদনা, সীমান্তে নিহত ফেলানীদের কান্না, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, স্বৈরশাসন, বিশ্বরাজনীতি এবং ব্যক্তিগত আবেগ একসূত্রে মিলেছে। ইতিহাস ও সমকালীন বাস্তবতার মিশেলে লেখা কবিতাগুলোকে কেউ কেউ আখ্যা দিয়েছেন বিদ্রোহী ও বজ্রকালি মাখা কবিতা হিসেবে।

৩২টি কবিতার এই সংকলনে ‘আগুন কি আলো নয়’, ‘আমায় ছিঁড়ে খাও...’, ‘মায় মরণের ছবি আঁকে’, ‘আকসার কয়লা’, ‘সার্বভৌমত্ব’, ‘বোডিং’, ‘প্রেমোগ্রাফি’সহ একাধিক কবিতায় উঠে এসেছে মা, দেশ, প্রেম, বিশ্বাস ও প্রতিরোধের গল্প। বিশেষ করে গাজার বাস্তবতা, আল আকসার মুক্তির আকুতি, মাতৃভূমির সার্বভৌমত্ব এবং শোষণের বিরুদ্ধে দ্রোহ তার কবিতাকে দিয়েছে গভীর রাজনৈতিক ও মানবিক মাত্রা।

লেখক আসিফ মাহামুদের মতে, এই কাব্যগ্রন্থে মুসলিমদের ঈমান, আল কুদস, পাশ্চাত্য আধিপত্যের সমালোচনা, পাশাপাশি প্রেম ও পারিবারিক আবেগও সমান গুরুত্ব পেয়েছে।

সব মিলিয়ে ‘লাভায় লালশাক পুবের আকাশ’ শুধু একটি কবিতার বই নয়—এটি সময়ের দলিল, যেখানে সমাজ, সংস্কৃতি, দেশীয় ও বৈশ্বিক রাজনীতি প্রেম ও মানবিক বোধের সঙ্গে মিশে এক অনন্য কাব্যভাষা তৈরি করেছে। ২০২৪ সালে দুয়ার প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত ৪৮ পৃষ্ঠার বইটির মূল্য রাখা হয়েছে ২০০ টাকা।

সম্পর্কিত