লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় ৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকার সড়ক সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর চার কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) করেছে পৌর প্রশাসন।
রোববার (১৯ জুলাই) রাতে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। একই সঙ্গে অনিয়মের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রকল্প পরিচালকের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
পৌর প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে উপ-সহকারী প্রকৌশলী সোহাগ আলী ও কার্যসহকারী ফাহাদ হোসেনকে ইতোমধ্যে লিখিতভাবে শোকজ করা হয়েছে। এছাড়া আরও দুই উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইসহাক ও এবিএম আশরাফ উদ্দিনকে শোকজ করার নির্দেশ দিয়েছেন পৌর প্রশাসক।
নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার হোসেন জানান, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত ‘রিজিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (আরইউটিডিপি)’ প্রকল্পের আওতায় পৌরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বিসি সড়ক, ড্রেন, স্ট্রিট লাইট ও ফুটপাত উন্নয়ন কাজ চলছে।
তিনি বলেন, সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, সড়কের ম্যাকাডমের কাজে অত্যন্ত নিম্নমানের খোয়া এবং ড্রেন নির্মাণে মানহীন পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে। এর আগে ঠিকাদারকে একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে সতর্ক করা হলেও তিনি তা মানেননি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ফিরোজ আলম নামে এক স্থানীয় ব্যবসায়ী কাজটি নিয়ে শুরু থেকেই অনিয়ম করে আসছিলেন। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে সরকারি অর্থের অপচেষ্টার অভিযোগ ওঠে।
পৌর প্রকৌশলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর প্রকল্পের সব ধরনের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স মোস্তফা অ্যান্ড সন্স’-এর স্বত্বাধিকারী শহিদুল ইসলামকে আগামী তিন দিনের মধ্যে সাইট থেকে সব নিম্নমানের মালামাল অপসারণের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে।
পৌরসভা জানিয়েছে, প্রকল্পের আওতায় ত্রিমোহনী হয়ে এএনএম ফজলুল করিম রোড থেকে পলিটেকনিক্যাল রোড এবং মাওলানা রেহান উদ্দিন রোড ও রামগতি রোড থেকে ঢাকা-রায়পুর রোড পর্যন্ত সড়ক, ড্রেন, স্ট্রিট লাইট ও ফুটপাত উন্নয়নের কাজ চলমান রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, নির্ধারিত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন না করা হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।