আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলার কোরবানির পশুর হাট জমাতে প্রস্তুত করা হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার গবাদি পশু। দুই উপজেলার ১২০টি খামারে এখন চলছে পশুর শেষ মুহূর্তের পরিচর্যা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম।
তবে পশুখাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে লাভ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় খামারিরা। খড়, খৈল, ভুষিসহ বিভিন্ন খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার দুই উপজেলায় কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে কমলনগর উপজেলার ৩৫টি খামারে ১৩ হাজার এবং রামগতি উপজেলার ৮৫টি খামারে প্রায় ১৭ হাজার পশু লালন-পালন করা হয়েছে।
কমলনগরের খামারি ইব্রাহিম বলেন, “খড়, খৈল ও ভুষিসহ সব ধরনের খাদ্যের দাম এখন আকাশচুম্বী। পশু লালন-পালন করতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। হাটে ন্যায্য মূল্য না পেলে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে।”
রামগতির আলেকজান্ডার ইউনিয়নের নারী খামারি রত্ন বেগমও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “কর্মচারীর বেতন, চিকিৎসা ও ওষুধের পেছনে প্রচুর খরচ হচ্ছে। এবার ভালো দাম না পেলে খামার চালিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যাবে।”
কমলনগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ইসমাইল হোসেন বলেন, “খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, ঈদুল আযহায় পশুর ভালো দাম পাওয়া যাবে এবং খামারিরা লাভবান হবেন।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কোরবানির হাটে স্থানীয় পশুর সরবরাহ ঠিক থাকলে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানো গেলে খামারিরা ন্যায্য মূল্য পাবেন। এতে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে পশুপালনে আরও আগ্রহ বাড়বে।