গরুর সরবরাহ বেশি, ক্রেতা কম; হতাশ রায়পুরের খামারিরা

স্টাফ রিপোর্টার
রায়পুরের পশুর হাটে কোরবানির গরু নিয়ে ক্রেতার অপেক্ষায় খামারিরা। ছবি: সংগৃহীত
রায়পুরের পশুর হাটে কোরবানির গরু নিয়ে ক্রেতার অপেক্ষায় খামারিরা। ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার বিভিন্ন পশুর হাটে কোরবানির গরুর ব্যাপক সরবরাহ দেখা গেলেও ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম। ফলে ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন খামারি ও বিক্রেতারা। বাজারে চাহিদার তুলনায় গরুর সংখ্যা বেশি থাকায় দর কমে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ২৭ হাজার ১৮৫টি গরু। বিপরীতে সম্ভাব্য চাহিদা রয়েছে প্রায় ১৩ হাজার ২৩০টি। সে হিসেবে উপজেলায় অতিরিক্ত রয়েছে প্রায় ১৩ হাজার ৯৫৫টি গরু। উপজেলার প্রায় ৬০টি ছোট-বড় খামারে গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া নিয়মিতভাবে গবাদিপশু পালন করছেন আরও প্রায় ২৫০ জন খামারি।

উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী, কেরোয়া, চরমোহনা ও পৌর শহরের বিভিন্ন অস্থায়ী পশুর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ছোট-বড় বিভিন্ন জাতের গরু নিয়ে হাটে অবস্থান করছেন খামারিরা। তবে ক্রেতার উপস্থিতি কম থাকায় অনেকেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও গরু বিক্রি করতে পারছেন না। আবার কেউ কেউ কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

স্থানীয় গরু ব্যবসায়ী আবদুল মালেক বলেন, প্রায় এক বছর ধরে একটি গরু লালন-পালনে খাবার, ওষুধ ও শ্রমিক ব্যয়সহ অনেক খরচ হয়েছে। খড়, ভুসি, ভুট্টা ও প্রস্তুতকৃত খাদ্যের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় গরু পালন এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যয়বহুল।

তিনি জানান, একটি গরুর পেছনে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু ক্রেতারা ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার বেশি দাম বলতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

আরেক ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বলেন, বাজারে গরুর সরবরাহ বেশি হলেও ক্রেতার সংখ্যা কম। অনেকের ধারণা বাইরে থেকে গরু আসতে পারে, ফলে স্থানীয় খামারিরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

নতুন বাজার এলাকার খামারি নেয়ামত উল্লাহ বলেন, গরুর খাদ্যের দাম কয়েক বছরে অনেক বেড়েছে। উৎপাদন ব্যয় বাড়ায় গরুর দামও তুলনামূলক বেশি রাখতে হচ্ছে। তবে অনেক ক্রেতা সেই দাম দিতে আগ্রহী নন।

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশীয় খামারিরা কয়েক বছর ধরে কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তবে বাজারে গুজব ও অনিশ্চয়তার কারণে দাম ওঠানামা করায় খামারিদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।

রায়পুর উপজেলার বাহার আলী মোল্লারহাট গরুর বাজারে আসা ক্রেতা মনির হোসেন বলেন, গরুর দাম এখনও তুলনামূলক বেশি মনে হচ্ছে। ঈদের আরও কাছাকাছি সময়ে দাম কিছুটা কমতে পারে বলে অনেকেই অপেক্ষা করছেন।

রায়পুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আতাউর রহমান জানান, উপজেলায় কোরবানির পশুর কোনো সংকট নেই। স্থানীয় খামারিরা চাহিদার তুলনায় বেশি পশু প্রস্তুত করেছেন। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে খামারিরা ধীরে ধীরে ভালো দাম পাবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সম্পর্কিত