লক্ষ্মীপুরে মুছার খাল পুনঃখননে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা

স্টাফ রিপোর্টার
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরে দীর্ঘদিন পর দখল, দূষণ ও পলি জমে প্রায় মৃত অবস্থায় থাকা মুছার খাল পুনঃখননের ফলে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসন ও সেচ সংকট দূর হওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা এখন বাড়তি ফসল উৎপাদনের আশায় রয়েছেন।

সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়নের মজুচৌধুরীর হাট থেকে শুরু হয়ে ভবানীগঞ্জ, কমলনগরের চরমার্টিন হয়ে তোরাবগঞ্জ উত্তর বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত এই মুছার খাল একসময় বছরে তিনবার ফসল উৎপাদনের জন্য সেচের প্রধান উৎস ছিল। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে দখল, দূষণ ও ছোট ছোট বাঁধের কারণে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে এটি প্রায় মরা খালে পরিণত হয়।

বর্তমান সরকারের খাল পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় এক কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে মুছার খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কমলনগর উপজেলার উত্তর সীমানা থেকে ভবানীগঞ্জের চরমনসা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ বর্তমানে প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি খালপাড় সংস্কার, রাস্তা বাঁধাই এবং দুই পাশে গাছ লাগানোর কাজও চলছে।

স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন পর খাল পুনঃখননের ফলে এখন সেচের জন্য পানি পাওয়া সহজ হবে। এতে ফসলি জমিতে চাষাবাদে আর পানি সংকট থাকবে না এবং একাধিক মৌসুমে চাষাবাদ করা সম্ভব হবে।

ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল হাসান রনি বলেন, “আগে এ খালে পানি দেখা যেত না। এখন খাল পুনঃখননের ফলে পানিপ্রবাহ ফিরবে এবং কৃষকেরা সবজি থেকে শুরু করে ধানসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করতে পারবে।”

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, খালটি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে শুধু জলাবদ্ধতা ও সেচ সমস্যা নয়, বরং কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। এতে এলাকার কৃষি অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সম্পর্কিত