লক্ষ্মীপুরে নিখোঁজের ১১ দিন পর ক্যানসার রোগী পারভেজের মরদেহ উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার
 ছবি: হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ লক্ষ্মীপুরের পারভেজ
ছবি: হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ লক্ষ্মীপুরের পারভেজ

রাজধানীর মহাখালী জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ হওয়া লক্ষ্মীপুরের ক্যানসার রোগী মো. পারভেজ (৪৭) আর বেঁচে নেই। নিখোঁজের ১১ দিন পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে জাতীয় সংসদের হুইপ ও লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন নিজান তার ফেসবুক পোস্টে পারভেজের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে গভীর শোক প্রকাশ করেন। পরে পারভেজের মামা শহীদুল্লাহ আহমদও মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

নিহত পারভেজ লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের চরবসু গ্রামের সাহাব উদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় কৃষক ছিলেন এবং চরকাদিরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করতেন।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন কন্যাসন্তান এবং তিন মাস বয়সী একটি শিশুকন্যাসহ অসংখ্য স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ১১ জুন পারভেজকে মহাখালীর জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২০ জুন বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় তার মামা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে হাসপাতালের ওপরের তলায় গেলে নিচে বসিয়ে রাখা পারভেজ নিখোঁজ হয়ে যান। গলায় ক্যানসার থাকায় তিনি কথা বলতে পারতেন না।

দীর্ঘ সময় হাসপাতালে খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধান না মেলায় ২১ জুন বনানী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজানের ফেসবুক পোস্ট ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারভেজের ক্যানসার এবং আর্থিক সংকটের কথা জানতে পেরে তার চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেন সংসদ সদস্য। তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ভর্তি, চিকিৎসা এবং সার্বক্ষণিক তদারকির ব্যবস্থাও করেছিলেন।

ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করা হয়, যেদিন পারভেজের কেমোথেরাপি দেওয়ার কথা ছিল, সম্ভবত ক্যানসারের তীব্র যন্ত্রণা বা চিকিৎসাজনিত ভয়ের কারণে তিনি কাউকে কিছু না জানিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যান।

পারভেজের প্রতিবেশী ও লক্ষ্মীপুর জজ আদালতের আইনজীবী রিদোয়ান হোসেন ফয়সাল জানান, রাজধানীর আফতাবনগর গেট এলাকায় অচেতন বা মৃত অবস্থায় তাকে দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তার মরদেহ রাখা হয়। দীর্ঘদিন ক্যানসারে আক্রান্ত থাকায় তিনি খেতে ও কথা বলতে পারতেন না।

খবর পাওয়ার পর হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তার উদ্যোগে অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ কমলনগরের চরবসু গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতেই পারিবারিক কবরস্থানে পারভেজের দাফন সম্পন্ন করা হবে।

সম্পর্কিত