লক্ষ্মীপুরের চার আসনের ২১৮ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

স্টাফ রিপোর্টার
 ছবি: প্রতীকী
ছবি: প্রতীকী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুর জেলার চারটি সংসদীয় আসনের ৪৯৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২১৮টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও ভোটের সুষ্ঠুতা ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভোটার ও প্রার্থীরা। বিশেষ করে নারী ভোটারদের মধ্যে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার বিষয়ে ভীতি ও শঙ্কা কাজ করছে।

তবে জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,

ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত কেন্দ্রগুলোতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভোটারদের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে।

ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চারটি আসনের প্রার্থী, দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা বর্তমানে নির্বাচনি পথসভা ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে ভোটের দিন সহিংসতার আশঙ্কায় বিশেষ করে নারী ভোটাররা উদ্বিগ্ন। তারা চান প্রশাসনের দৃশ্যমান ও কার্যকর উপস্থিতি।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে,

লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে পৌরসভাসহ ১০টি ইউনিয়নে মোট ভোটার ২ লাখ ৭৪ হাজার ২৬১ জন। এখানে পোস্টাল ভোটার রয়েছেন ৭ হাজার ৪০ জন। লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ) আসনে ভোটার ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৯৬২ জন এবং পোস্টাল ভোটার ১০ হাজার ৬৩ জন। লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৩৪ হাজার ৬০৫ জন এবং পোস্টাল ভোটার ৯ হাজার ৮৬৭ জন। লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১২ হাজার ২৯৩ জন এবং পোস্টাল ভোটার ৫ হাজার ৮৬৫ জন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় জানায়,

চারটি আসনের ৪৯৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ২১৮টি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতে এক হাজার ৩১৩ জন পুলিশ সদস্য, ৬০০ জন সেনাসদস্য এবং ১০ প্লাটুন বিজিবিসহ প্রায় তিন হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য চার দিনব্যাপী দায়িত্ব পালন করবেন।

স্থানীয় ভোটার ও প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চারটি আসনে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ মোট ৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো নিয়ে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। ভোটের আগের দিন ও ভোটের দিন সহিংসতার আশঙ্কাও করছেন তারা।

লক্ষ্মীপুর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, একটি দলের প্রার্থী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। ভোটের দিন সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের কাছে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

জামায়াতের প্রার্থী রুহুল আমিন ভূঁইয়া অভিযোগ করে বলেন, একটি দলের নেতাকর্মীরা ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করছে এবং উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছে। এতে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার বিষয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের পাশাপাশি ফেনী ৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নও দায়িত্ব পালন করছে। ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোশারফ জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা ও ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করাই বিজিবির মূল লক্ষ্য। ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনের পাশাপাশি টহল, স্ট্রাইকিং ফোর্স, অস্থায়ী চেকপোস্ট ও রোবাস্ট পেট্রোলিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক বলেন,

শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। প্রায় তিন হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মাঠে থাকবে এবং ভোটাররা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে যেতে পারবেন।

জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা এসএম মেহেদী হাসান বলেন, পাঁচ উপজেলার চারটি সংসদীয় আসনে ৪৭টি ইউনিয়নের ৪৯৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ২১৮টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোনও ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণে প্রস্তুতি রয়েছে বলে তিনি জানান।

সম্পর্কিত