লক্ষ্মীপুরে মারধরের মামলায় ফারহানা আক্তার শিল্পী নামে এক নারীসহ দুজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ সময় শিল্পীর এক বছরের দুধের শিশুকেও মায়ের সঙ্গে কারাগারে যেতে হয়েছে। অন্যদিকে স্কুলড্রেস পরা তার আরও দুই সন্তানকে জেলগেটে দাঁড়িয়ে মায়ের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতের বিচারক শাহ জামাল মামলার আসামি ফারহানা আক্তার শিল্পী ও জহির উদ্দিনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতের পেশকার দেলোয়ার হোসেন জানান, আদালতের নির্দেশে দুই আসামিকে পুলিশ হাজতে পাঠানো হয়। পরে শিশুসন্তানকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তবে পরে লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার নুর মোহাম্মদ সোহেল জানান, শিশুসন্তানসহ শিল্পীকে বিকেলে কারাগারে আনা হয়েছে।
এদিকে প্রিজনভ্যানে মায়ের কোলে থাকা শিশুসন্তান এবং জেলগেটে দাঁড়িয়ে থাকা দুই শিশুর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মহসিন কবির স্বপন ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে দাবি করেন, শিল্পীর এক বছরের শিশু সিয়াম বর্তমানে মায়ের সঙ্গে কারাগারে রয়েছে। অন্য দুই সন্তান—পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র শিপন হোসেন (১০) ও দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী তামান্না আক্তার (৮)—জেলগেটে দাঁড়িয়ে মায়ের জন্য অপেক্ষা করছিল। তারা শহীদ স্মৃতি আদর্শ একাডেমির শিক্ষার্থী এবং তাদের পরীক্ষা চলমান রয়েছে।
আইনজীবী স্বপন আরও লেখেন, মামলায় রড দিয়ে আঘাতের অভিযোগ আনা হলেও ভিডিও ফুটেজে উল্টো শিল্পীকে মারধরের শিকার হতে দেখা যায় বলে তিনি দাবি করেন।
আসামিপক্ষের আরেক আইনজীবী রাকিবুল হাসান তামিম বলেন, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে শিল্পী রড দিয়ে বাদীর মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করেছেন। তবে আদালতে জমা দেওয়া মেডিক্যাল সার্টিফিকেটে আঘাতকে ‘সিম্পল ইনজুরি’ বা সাধারণ জখম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপরও আদালত তাদের কারাগারে পাঠিয়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাহাপুর এলাকার মাহাতাব উদ্দিন ভূঁইয়া গত ১৫ এপ্রিল তার ওপর হামলার অভিযোগ এনে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি সদর আদালতে মামলা করেন। মামলায় শিল্পীসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও পাঁচজনকে আসামি করা হয়।