আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে লক্ষ্মীপুরের খামারগুলোতে কোরবানির পশুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। এবারের কোরবানিকে সামনে রেখে জেলায় প্রস্তুত করা হয়েছে ৯৫ হাজার ৪৭৭টি পশু। স্থানীয় খামারেই এসব পশু লালন-পালন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর লক্ষ্মীপুরে কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৮৯ হাজার ২১৫টি। সেই তুলনায় প্রায় ৬ হাজার ২৬২টি পশু বেশি প্রস্তুত রয়েছে। জেলার পাঁচটি উপজেলায় প্রায় ৩ হাজার ছোট-বড় খামারে এখন চলছে পশুর বিশেষ পরিচর্যা ও বাজারজাতের প্রস্তুতি।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম ফজলুল হক বলেন, চাহিদার তুলনায় জেলায় পর্যাপ্ত পশু রয়েছে। বাইরে থেকে যাতে পশু প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন সজাগ রয়েছে। পাশাপাশি খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পশুর হাটগুলোতে ২০টি মেডিকেল টিম দায়িত্ব পালন করবে।
খামারিরা বলছেন, পশুখাদ্য ও লালন-পালনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবার কোরবানির পশুর দাম আগের তুলনায় কিছুটা বেশি হতে পারে। তারা দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় বিদেশ থেকে গরু আমদানি বন্ধ রাখারও দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে কোরবানির পশুর বেচাকেনাকে কেন্দ্র করে জেলার ৯০টি পশুর হাটে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জেলা পুলিশ জানিয়েছে, ২০টি স্থায়ী ও ৭০টি অস্থায়ী হাটে নিরাপত্তা নিশ্চিতে টহল পুলিশ ও সাদা পোশাকের সদস্যরা কাজ করবেন।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক এর সহযোগিতায় পশুর হাটগুলোতে জাল টাকা শনাক্তকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এছাড়া পশুবাহী গাড়ি থেকে চাঁদাবাজি, গরু চুরি ও যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে থাকবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মো. রায়হান কাজেমী বলেন, হাটের সার্বিক নিরাপত্তায় পুলিশ কাজ করছে। খামারিদেরও সতর্ক থাকার পাশাপাশি যেকোনো সমস্যায় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি।