লক্ষ্মীপুর জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে নিজস্ব ভবন না থাকায় নাগরিক সেবা দিতে চরম ভোগান্তির মুখে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। জেলার ৫৮টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে অন্তত ১৯টির নিজস্ব কার্যালয় নেই, ফলে ভাড়া করা কক্ষ বা দোকানঘরে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
সরেজমিনে সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়নে দেখা যায়, বাজারের একটি ছোট দোকানঘরে প্রায় ৩০ বছর ধরে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম চলছে। সেখানে পর্যাপ্ত বসার জায়গা নেই, নেই নথিপত্র সংরক্ষণের নিরাপদ ব্যবস্থা কিংবা শৌচাগার।
কার্যালয়ে মাত্র কয়েকটি চেয়ার-টেবিল দিয়ে গাদাগাদি করে দাপ্তরিক কাজ চালানো হচ্ছে। গ্রাম আদালত পরিচালনার সময় বাদী-বিবাদীসহ লোকজনকে ভেতরে-বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।
একই চিত্র দেখা গেছে টুমচর ইউনিয়ন পরিষদেও। প্রায় ২৫ বছর ধরে একটি টিনশেড ঘরে চলছে পরিষদের কার্যক্রম। ওই ঘরটি চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে নির্মিত এবং এর জন্য প্রতি মাসে ভাড়া গুনতে হচ্ছে। আলো-বাতাসের অভাব ও সংকীর্ণ জায়গায় কোনোমতে অফিস পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পরিষদের কার্যালয় ছোট হওয়ায় সেবা নিতে এসে রোদ-বৃষ্টিতে বাইরে অপেক্ষা করতে হয়। এমনকি জরুরি প্রয়োজনে শৌচাগারের জন্য আশপাশের বাসাবাড়ির ওপর নির্ভর করতে হয়।
দালাল বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, নতুন ভবন নির্মাণের জন্য একাধিকবার আবেদন করা হলেও এখনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। সীমিত জায়গায় গ্রাম আদালত পরিচালনা করতেও সমস্যা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, লক্ষ্মীপুরের ৫টি উপজেলার ৫৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৯টির নিজস্ব ভবন নেই। এসব ইউনিয়নের মধ্যে সদর উপজেলার হাজিরপাড়া, দক্ষিণ হামছাদী, দালাল বাজার, টুমচরসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন রয়েছে।
এদিকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তারাও ছোট কক্ষে সীমিত পরিসরে কাজ করছেন। এতে জন্ম-মৃত্যু সনদ, নাগরিকত্ব ও ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন সেবাগ্রহীতারা।
টুমচর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল বাছের জানান, দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ইউনিয়নে ভবন না থাকায় চেয়ারম্যানের বাড়ি বা অস্থায়ী স্থাপনায় অফিস করতে হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভূমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নতুন ভবন নির্মাণে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে জমি নির্ধারণ না হওয়ায় সরকারও ভবন নির্মাণে এগোতে পারছে না।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদের ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। জমি পাওয়া গেলে সরকারের প্রকল্পের মাধ্যমে দ্রুত ভবন নির্মাণ করা হবে।