চৌমুহনী-লক্ষ্মীপুর সড়কে চার লেনের কাজে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

স্টাফ রিপোর্টার
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

চৌমুহনী থেকে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত চার লেন সড়ক নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চললেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন লাখো মানুষ। সড়কের দুই পাশে গভীরভাবে খনন করে নির্মাণকাজ পরিচালনা করা হলেও অধিকাংশ ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নেই নিরাপত্তা বেষ্টনী, ব্যারিকেড, সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড, প্রতিফলক কিংবা রাতের বেলায় সতর্কতামূলক আলোর ব্যবস্থা।

ফলে সামান্য অসাবধানতা বা যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঘটনাও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সড়ক ব্যবহারকারীরা।

সম্প্রতি লক্ষ্মীপুরের মান্দারী বাজার বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন এলাকায় সিমেন্টবোঝাই একটি লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খননকৃত অংশে উল্টে যায়। স্থানীয়দের দাবি, সড়কের পাশে গভীর খননকাজ চললেও সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে।

তবে ওই ঘটনায় বড় ধরনের প্রাণহানি না ঘটলেও ঘটনাটি নির্মাণকাজে নিরাপত্তার ঘাটতির বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

বর্তমানে চৌমুহনী-লক্ষ্মীপুর সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করছে। পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত এ সড়ক ব্যবহার করছেন।

কিন্তু নির্মাণাধীন বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় চালক ও যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, বিশেষ করে রাতের বেলায় এবং বৃষ্টির সময় সড়কে চলাচলের ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

অনেক স্থানে সড়কের এক পাশ সরু হয়ে গেছে। আবার কোথাও খননকৃত অংশের পাশে কোনো ধরনের সতর্কীকরণ চিহ্ন বা নিরাপত্তা বেষ্টনী নেই। বিপরীত দিক থেকে আসা দুটি ভারী যানবাহন অতিক্রম করার সময় প্রায়ই দুর্ঘটনার উপক্রম হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সড়ক ব্যবহারকারীরা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে কাজ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নির্মাণকাজ চলাকালে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করে প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ব্যারিকেড, নিরাপত্তা বেষ্টনী, সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড, প্রতিফলক চিহ্ন এবং পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

সচেতন মহলের মতে, বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটার আগেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি ছোট অবহেলাও যে কোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ও অপূরণীয় প্রাণহানির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

স্থানীয়দের দাবি, উন্নয়নকাজের পাশাপাশি জননিরাপত্তাকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নির্মাণাধীন সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে দ্রুত প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হবে।

সম্পর্কিত