ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনে নির্বাচনী গণসংযোগকালে অর্থ লেনদেনের একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিমকে এক বৃদ্ধ মহিলার হাতে ৫০০ টাকা দিতে দেখা যায়, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ড. রেজাউল করিম ওই বৃদ্ধ মহিলার হাতে ৫০০ টাকা তুলে দিচ্ছেন। একই সময় ঘরের ভেতরে থাকা এক ভোটারের উদ্দেশে তাকে বলতে শোনা যায়
“এই খালার হাতে ৫০০ টাকা দিছি, এবার দাঁড়ি পাল্লা ভোট দিবেন ইনশাআল্লাহ।”
ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ড. রেজাউল করিম টাকা দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।
তিনি বলেন, ওই বৃদ্ধ মহিলা তার কাছে আর্থিক সহযোগিতা চেয়েছিলেন। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি সামান্য সহায়তা করেছেন। তবে ভোটের বিনিময়ে টাকা দেওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। তার দাবি, তিনি কখনো ভোট কেনার উদ্দেশ্যে কাউকে অর্থ দেননি এবং সে সময় আচরণবিধির বিষয়টি তার খেয়ালেও ছিল না।
অন্যদিকে, ঘটনাটি নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির বড় ভাই ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি।
তিনি বলেন, নির্বাচনী গণসংযোগের সময় প্রকাশ্যে টাকা দিয়ে ভোটারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা সরাসরি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল। এ ঘটনায় তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ ও দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা এস এম মেহেদী হাসান বলেন, বিষয়টি ইতোমধ্যে তাদের নজরে এসেছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই-বাছাই করে নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, এর আগেও লক্ষ্মীপুর জেলায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জামায়াতের এক নেতাকে দুই শতাধিক নারী-পুরুষ নিয়ে সমাবেশ করার দায়ে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল।