লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদর আংশিক) আসনে সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দ হাতিয়ে নিতে জনস্বার্থহীন ও বাস্তবে অস্তিত্বহীন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নাম তালিকাভুক্ত করার অভিযোগে চররুহিতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুর হোসেন চৌধুরী আরজুকে কারণ দর্শানো নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে দলের সদর (পশ্চিম) উপজেলা কমিটি। আগামী ৭ জুনের মধ্যে তাকে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) বিকেলে সদর (পশ্চিম) উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন বিটু পাটোয়ারী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শোকজ চিঠি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়ার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান উন্নয়নের উদ্যোগের আওতায় বিভিন্ন মসজিদের নামে বরাদ্দ চাওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এই জালিয়াতি সংঘটিত হয়। বিএনপি নেতা আরজু "নুরনবী চৌধুরী জামে মসজিদ" নাম দিয়ে সম্পূর্ণ অবাস্তব একটি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত করেন এবং এর বিপরীতে ৩ লাখ টাকা সরকারি বরাদ্দ আনতে সক্ষম হন। তালিকা প্রকাশ পেলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঘটনাস্থলে কোনো জামে মসজিদ বা পাঞ্জেগানা মসজিদের অস্তিত্ব নেই। স্থানীয়রা জানান, পুকুরে গোসল সেরে কেউ কেউ একটি মাচার মতো জায়গায় নামাজ আদায় করেন, এটুকুই। সেই সামান্য নামাজের জায়গাকে পূর্ণাঙ্গ মসজিদ হিসেবে দেখিয়ে বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চররুহিতা ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতা জানান, আরজু তার বাবা নুরনবী চৌধুরীর নামে ভুয়া তালিকা দিয়ে এই বরাদ্দ এনেছেন। শুধু তাই নয়, ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামালুর রহিম মানিকও একইভাবে তার বাবা তাজল ইসলাম ভূঁইয়ার নামে একটি অস্তিত্বহীন মসজিদের তালিকা দিয়ে বরাদ্দ নিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা নুর হোসেন চৌধুরী আরজু বলেন, "আমার মসজিদ আছে, ইমাম ও মুয়াজ্জিন আছে। ইমামকে বেতনও দিই। কী কারণে শোকজ করা হয়েছে তা শোকজকারীরাই জানেন।" তিনি আরও দাবি করেন, বিএনপি নেতা মানিকের বাবার নামেও মসজিদ আছে।
এ বিষয়ে সদর (পশ্চিম) উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন বিটু পাটোয়ারী বলেন, "ঘটনাটি দুঃখজনক। তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। তাই আরজুকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে।"
উল্লেখ্য, সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দের নামে এভাবে ভুয়া প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে। রাজনৈতিক পরিচয়কে ব্যবহার করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে এই দুর্নীতির বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।