লক্ষ্মীপুরে জামায়াত-বিএনপির পাল্টাপাল্টি হামলা, আহত অন্তত ১৫

স্টাফ রিপোর্টার
সংঘর্ষে আহতরা লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ছবি: দৈনিক নতুনচাঁদ
সংঘর্ষে আহতরা লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ছবি: দৈনিক নতুনচাঁদ

লক্ষ্মীপুরে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নের বটতলা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সতর্ক অবস্থান নেয়।

আহতদের মধ্যে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীরা রয়েছেন। জামায়াতের আহত নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছেন—ইউনিয়ন জামায়াতের যুব বিভাগের সেক্রেটারি আব্দুর রহমান, ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মা. হেজবুল্লাহ সোহেল, ইউনিয়ন যুব বিভাগের সহসভাপতি সাকিব হোসেন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নেতা এমরান হোসেন এবং ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি শাহাদাত হোসেন খোকন। অপরদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে আহত হয়েছেন মো. আব্দুল, মো. কামাল হোসেন, রাসেল ভুইয়াসহ দলটির আরও কয়েকজন নেতাকর্মী।

জামায়াতের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, চরশাহী ইউনিয়নের বটতলা গ্রামে তাদের পূর্বঘোষিত একটি নারীসভা চলাকালে বিএনপির নেতাকর্মীরা সেখানে এসে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে জামায়াতের অন্তত ১০ থেকে ১২ জন নেতাকর্মী আহত হন। হামলার সময় লাঠিসোঁটা ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

তবে বিএনপির পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। বিএনপি নেতা সাইফুজ্জামান শরীফ দাবি করেন, চরশাহী ইউনিয়নে তাদের একটি পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি চলছিল। এ সময় কয়েকজন স্থানীয় নারী অভিযোগ করেন, টিসিবির মালামাল দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে ভোটার আইডির কপি ও ২০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়টি যাচাই করতে গেলে জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিএনপির কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে বিএনপির অন্তত চারজন নেতাকর্মী আহত হন বলে তিনি দাবি করেন।

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে আটজনকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সদর হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

চন্দ্রগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোরশেদ আলম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

সম্পর্কিত