ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুর জেলায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জেলা পুলিশ। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জেলার প্রতিটি ভোটকেন্দ্র কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে বলে জানিয়েছেন লক্ষ্মীপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী (পিপিএম-সেবা)।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে অনলাইন সংবাদমাধ্যম ঢাকা মেইল-এর সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, লক্ষ্মীপুর জেলায় মোট ৫টি উপজেলা ও ৪টি সংসদীয় আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জেলার সব ভোটকেন্দ্রকে গুরুত্ব অনুযায়ী তিনটি ভাগে বিভক্ত করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।
জেলা পুলিশের তথ্যমতে, লক্ষ্মীপুরে মোট ৪৯৬টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ২১৫টি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ১৯৮টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ এবং ৮৩টি কেন্দ্রকে সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
থানাভিত্তিক কেন্দ্র বিন্যাস অনুযায়ী লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় মোট ১২২টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৮৬টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ ও ২০টি সাধারণ কেন্দ্র। রায়পুর উপজেলায় রয়েছে ৮২টি কেন্দ্র, যার মধ্যে ২৬টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ৪৭টি গুরুত্বপূর্ণ ও ৯টি সাধারণ।
রামগঞ্জ উপজেলায় মোট ৯৩টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং ৬৩টি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত হলেও এখানে কোনো সাধারণ কেন্দ্র নেই। রামগতি উপজেলায় ৬৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৭টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ ও ৩৫টি সাধারণ কেন্দ্র রয়েছে। কমলনগর উপজেলায় মোট ৫৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৬টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ৩৬টি গুরুত্বপূর্ণ ও ৩টি সাধারণ। চন্দ্রগঞ্জ থানার অধীনে রয়েছে ৭৭টি কেন্দ্র, যার মধ্যে ৪০টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ২১টি গুরুত্বপূর্ণ ও ১৩টি সাধারণ কেন্দ্র।
রায়হান কাজেমী আরও জানান, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে দুইজন পুলিশ সদস্য এবং ১২ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি মাঠে থাকবে পুলিশের মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। নির্বাচনী নিরাপত্তা জোরদারে মোতায়েন থাকবে ১০ প্লাটুন বিজিবি, সেনাবাহিনী, র্যাব এবং সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরা।
তিনি বলেন, “লক্ষ্মীপুরবাসীকে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে জেলা পুলিশ সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা কঠোর হাতে দমন করা হবে।”