আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুর জেলার প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি) স্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আবু তারেক। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের দিন থানা থেকেই সরাসরি ভোটকেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম লাইভ মনিটরিং করা হবে, ফলে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ থাকবে না।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, লক্ষ্মীপুর জেলায় মোট ৪৯৬টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ন্যূনতম দুইজন করে পুলিশ সদস্য মোতায়েনের প্রয়োজন হবে, সে হিসেবে প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য দরকার। বর্তমানে জেলায় কর্মরত পুলিশ সদস্যের সংখ্যা ১ হাজার ৫০ জন হওয়ায় অতিরিক্ত আরও প্রায় ৫০০ পুলিশ সদস্যের প্রয়োজন হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, জেলার ২১৫টি ভোটকেন্দ্রকে অতিগুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও র্যাব সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান পুলিশ সুপার।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের ৫০ জন সাংবাদিক অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক শারমিন রিনভী এবং পিআইবির প্রশিক্ষক মোহাম্মদ শাহ আলম। কর্মশালায় নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতার নীতিমালা, দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশন, তথ্য যাচাই এবং মাঠপর্যায়ের চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।