রোগীদের সঙ্গে মানবিক আচরণের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

স্টাফ রিপোর্টার
 ছবি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন
ছবি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন

রোগীদের প্রতি ভালোবাসা, সহানুভূতি ও সম্মান দেখিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, চিকিৎসকের মানবিক আচরণ রোগীর সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একজন চিকিৎসকের হাসিমুখে কথা বলা একজন রোগীকে অনেকটাই মানসিকভাবে সুস্থ করে তুলতে পারে। তাই ওষুধ দেওয়ার পাশাপাশি রোগীদের সঙ্গে আন্তরিক, সম্মানজনক ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, চিকিৎসকের পেশা শুধু একটি চাকরি নয়, এটি মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িত একটি মহৎ দায়িত্ব। মানুষ যখন সবচেয়ে কঠিন সময়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে, তখন সৃষ্টিকর্তার পর সবচেয়ে বেশি আস্থা রাখে একজন চিকিৎসকের ওপর। তাই চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনে মানবিকতা, পেশাগত নৈতিকতা ও সেবার মানসিকতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, চিকিৎসকদের মধ্যে চিকিৎসা-নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ আরও সুদৃঢ় করতে হবে। রোগীদের প্রতি ভালোবাসা ও সহানুভূতি প্রদর্শন তাদের মানসিক শক্তি বাড়ায় এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে সহায়তা করে।

নিজের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করার মধ্যেই প্রকৃত তৃপ্তি রয়েছে। চিকিৎসকদেরও একই মানসিকতা নিয়ে মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান তিনি।

করোনা মহামারি, হামের প্রাদুর্ভাব এবং সাম্প্রতিক বন্যায় চিকিৎসকদের ভূমিকার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, দেশের চিকিৎসকরা দায়িত্ববোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বিশেষ করে চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত এলাকায় গভীর রাতেও চিকিৎসাসেবা দিয়ে তারা পেশাগত দায়বদ্ধতার পরিচয় দিয়েছেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি কমিউনিটি ক্লিনিক, উপজেলা হাসপাতাল ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রগুলোকে আরও আধুনিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী মাস থেকে এ উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রাজধানী ও গ্রামাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য কমিয়ে সারা দেশে সমান মানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। চিকিৎসকদের বিভিন্ন যৌক্তিক দাবি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হলেও জনগণের চিকিৎসাসেবায় কোনো ধরনের বিলম্ব করা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, সময়নিষ্ঠা, পেশাগত নৈতিকতা ও মানবিক আচরণ বজায় রাখতে পারলে চিকিৎসকরা মানুষের কাছে আরও বেশি সম্মানিত ও আস্থাভাজন হয়ে উঠবেন।

সম্পর্কিত