ঈদুল আজহার আগের রাতে রাজধানীর ওয়ারী এলাকায় ডিবি পুলিশের পরিচয়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ী হরিপদ পাল ও তার প্রতিষ্ঠানের এক ব্যবস্থাপককে অপহরণ করে ৫৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
রোববার (৭ জুন) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. মাসুদ রানা এ তথ্য জানান।
গ্রেফতাররা হলেন— শহিদুল ইসলাম মাঝি (৬০), আব্দুল মালেক (৫৫), মনির হোসেন (৪৫), ইউসুফ কাজী (৬৫), রাইসুল ইসলাম (৩৪), আরিফুল ইসলাম (৩৪), আফজাল হোসেন (৩০), তিন্নাথ পাল (৩৮) ও রিপন পাল (৩৬)।
পুলিশ জানায়, গত ২৭ মে কোরবানির ঈদের আগের রাতে ওয়ারী থানার নবাবপুর রোডের রথখোলা মোড় এলাকায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী হরিপদ পাল ও তার প্রতিষ্ঠানের এক ব্যবস্থাপক ৫৭ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় সংঘবদ্ধ একটি চক্র তাদের পথরোধ করে নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দেয়।
পরে ভুক্তভোগীদের কাছে অবৈধ মাদক রয়েছে বলে অভিযোগ তুলে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। একপর্যায়ে তাদের একটি মাইক্রোবাসে তুলে চোখ-মুখ বেঁধে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে কমলাপুর রেলস্টেশনসংলগ্ন এলাকায় তাদের ফেলে রেখে পালিয়ে যায় চক্রের সদস্যরা।
ঘটনার পর হরিপদ পালের অভিযোগের ভিত্তিতে ওয়ারী থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ওয়ারী থানা পুলিশের একটি দল শনিবার সকালে ইত্তেফাক মোড় এলাকায় পুনরায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে চক্রটির ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করে।
এ সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি ডিবি জ্যাকেট, একটি খেলনা পিস্তল, দুটি ওয়াকি-টকি সেট, এক জোড়া হাতকড়া, দুটি লাঠি এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে গ্রেফতারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যশোর ও তাঁতীবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও তিন সদস্যকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, ছিনতাই হওয়া ৫৭ ভরি স্বর্ণের মধ্যে ১৭ ভরি গলানো স্বর্ণ, স্বর্ণ বিক্রির ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল এবং একটি মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়েছে।
অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. মাসুদ রানা বলেন, পুনরায় ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে ওয়ারী থানায় পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে চক্রটির অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতার এবং লুণ্ঠিত বাকি স্বর্ণ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।