কনকনে শীতে জবুথবু চুয়াডাঙ্গা, ৭.৫ ডিগ্রিতে নেমেছে তাপমাত্রা

ঘন কুয়াশা ও কনকনে শীতে চুয়াডাঙ্গায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। ছবি: দৈনিক নতুনচাঁদ
ঘন কুয়াশা ও কনকনে শীতে চুয়াডাঙ্গায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। ছবি: দৈনিক নতুনচাঁদ

কনকনে হিমেল হাওয়ার প্রবাহে তীব্র শীতের কবলে পড়েছে চুয়াডাঙ্গা জেলা। রাত থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাচ্ছে পুরো জনপদ। টানা মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে স্থবির হয়ে পড়ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। কনকনে ঠাণ্ডায় কাঁপছে মানুষ, জবুথবু অবস্থা তৈরি হয়েছে সর্বত্র।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) চুয়াডাঙ্গা জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত তিন দিন ধরে সূর্যের দেখা নেই বললেই চলে। সকাল থেকে ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে।

শীতের দাপটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশা ও ভ্যানচালকসহ খেটে খাওয়া মানুষ। কাজে বের হলেও কনকনে ঠাণ্ডায় শরীর কাঁপছে, আয় কমছে, বাড়ছে দুশ্চিন্তা। ঘন কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে দিনের বেলাতেও সড়কে যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।

শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব পড়েছে কৃষিকাজেও। মাঠে কাজের গতি কমে গেছে। সবজি ক্ষেতে শিশিরের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কৃষকেরা আশঙ্কা করছেন, শীত দীর্ঘ হলে ফসলের ক্ষতি হতে পারে।

এদিকে শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা সর্দি-কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে ঠাণ্ডাজনিত রোগীর চাপ বাড়তে শুরু করেছে।

ইজিবাইক চালক আব্দুস সবুর বলেন, ‘সকাল থেকেই রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকে। যাত্রী একেবারেই নেই। পেটের দায়ে বের হলেও ঠাণ্ডায় একা একা ঘুরে কাবু হয়ে যাচ্ছি।’

কৃষিশ্রমিক রবিউল ইসলাম বলেন, ‘ভোরবেলা এত শীত থাকে যে মাঠে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। হাত-পা কাঁপে। কাজ কমে যাওয়ায় আয়ও কমে গেছে।’

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ জামিনুর রহমান জানান, আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। এর ফলে জেলায় শৈত্যপ্রবাহ দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সম্পর্কিত