বিশ্বের দিনগুলো ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে এবং এর জন্য দায়ী মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন। ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইটিএইচ জুরিখের গবেষকেরা জানিয়েছেন, বর্তমান পৃথিবীর দিনগুলো প্রতি শতাব্দীতে প্রায় ১.৩৩ মিলিসেকেন্ড হারে দীর্ঘ হচ্ছে, যা গত ৩৬ লাখ বছরের ইতিহাসে এত দ্রুত ঘটেনি।
গবেষণা থেকে দেখা গেছে, মেরু অঞ্চলের বরফ ও হিমবাহ দ্রুত গলে বিষুবরেখার দিকে প্রবাহিত হচ্ছে, ফলে পৃথিবীর ভরের বিন্যাস বদলাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা এটিকে ফিগার স্কেটারের সঙ্গে তুলনা করেছেন। একজন নৃত্যশিল্পী ঘোরার সময় হাত ছড়িয়ে দিলে ঘূর্ণন ধীর হয়, ঠিক তেমনই পৃথিবীও তার অক্ষ থেকে ভর দূরে সরানোর কারণে ধীরে ঘূর্ণন করছে।
ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বেনেডিক্ট সোজা বলেছেন, ‘২০০০–২০২০ সালের মধ্যে ঘূর্ণনের পরিবর্তনের গতি ইতিহাসে অনন্য। এটি আধুনিক প্রযুক্তির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, বিশেষ করে মহাকাশযান ও স্যাটেলাইট নেভিগেশন সিস্টেমের জন্য, যা মিলিসেকেন্ডের নির্ভুলতার ওপর নির্ভর করে।’
গবেষকরা ৩৬ লাখ বছর আগের দিনের দৈর্ঘ্য বেন্থিক ফোরামিনিফেরা নামক প্রাচীন এককোষী সামুদ্রিক জীবের জীবাশ্ম পরীক্ষা করে নির্ধারণ করেছেন। দেখা গেছে, অতীতের প্রাকৃতিক পরিবর্তনের তুলনায় ২৫ বছরে মানবসৃষ্ট গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের প্রভাব কয়েক গুণ দ্রুত।
গবেষকরা সতর্ক করেছেন, ২০৮০–এর দশক থেকে দিনের দৈর্ঘ্য প্রতি শতাব্দীতে ২.৬২ মিলিসেকেন্ড পর্যন্ত বড় হতে পারে, যা চাঁদের মহাকর্ষের চেয়েও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বেশি প্রভাবশালী হবে।