লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত এক বছরে ঝুঁকিমুক্তভাবে এক হাজার ৮১৯ জন প্রসূতি মায়ের নরমাল ডেলিভারি সম্পন্ন হয়েছে। সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ার পাশাপাশি নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে এ সাফল্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামনাশিষ মজুমদার জানান, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে এই সংখ্যক প্রসূতি মাকে নিরাপদ নরমাল ডেলিভারি সেবা দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কারণে ৪২ জন প্রসূতিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল ও নোয়াখালী সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছয়টি মিডওয়াইফ পদের অনুমোদন থাকলেও বর্তমানে কোনো মিডওয়াইফ কর্মরত নেই। এ অবস্থায় চিকিৎসক ও নার্সদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় নিয়মিত ডেলিভারির মতো ঝুঁকিপূর্ণ সেবা চালু রাখা হয়েছে, যা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।
সরকারি হাসপাতালে ডেলিভারি সেবা জোরদার হওয়ায় আর্থিকভাবে স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। অনেক প্রসূতি মা ও তাঁদের স্বজনরা বেসরকারি ক্লিনিকের পরিবর্তে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে নিরাপদ সেবা গ্রহণ করছেন।
তবে হাসপাতালের ভেতরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন তুলনামূলক ভালো হলেও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর তীব্র সংকট রয়েছে বলে জানান কর্তৃপক্ষ। এ কারণে অনেক সময় রোগীদের নোংরা ও অস্বস্তিকর পরিবেশে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, যা দ্রুত সমাধানের দাবি রাখে।
ডা. কামনাশিষ মজুমদার আরও বলেন, “বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুহার আরও কমবে। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও সহায়ক ব্যবস্থা জোরদার করা গেলে ‘নিরাপদ মাতৃত্ব’ বাস্তবায়নে রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স একটি মডেল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।”