দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জীবনরক্ষাকারী র্যাবিস (জলাতঙ্ক) ভ্যাকসিন না পাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছেন রোগীরা। সরকারি সরবরাহ বন্ধ থাকায় এই সুযোগে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি প্রভাবশালী অসাধু চক্র। অভিযোগ রয়েছে, নিরুপায় রোগীদের জিম্মি করে ৫০০ টাকার ভ্যাকসিন ১০০০ টাকা বা তারও বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ জানায়, ভ্যাকসিন সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তবে আগামী এক মাসের মধ্যে নতুন করে ভ্যাকসিন পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। বর্তমানে রোগীরা বাইরে থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে আনলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা প্রয়োগ করে দিচ্ছে।
জানা গেছে, দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতি মাসে গড়ে ১০০ থেকে ১৫০ জন জলাতঙ্কে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসের ২০ তারিখ থেকে হাসপাতালে র্যাবিস ভ্যাকসিনের সরকারি সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে একটি অসাধু চক্র অতিরিক্ত দামে ভ্যাকসিন বিক্রি করছে, যা অনেক রোগীর ক্রয়ক্ষমতার বাইরে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রায় চার লাখ মানুষের একমাত্র ভরসা ৫০ শয্যার এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক, কর্মচারী, ওষুধ ও ভ্যাকসিন সংকটে ভুগছে।
জায়লস্কর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. রফিক উল্যাহ বলেন, হাসপাতালে নিয়ে গেলে ভ্যাকসিন নেই বলা হয়। পরে বাইরে থেকে ৫০০ টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন কিনতে হয়েছে।
অন্যদিকে বিবি রহিমা নামের এক অভিভাবক বলেন, তাঁর ছেলেকে কুকুরে কামড় দেওয়ার পর হাসপাতালে এসে জানতে পারেন ভ্যাকসিন নেই, যা অত্যন্ত দুশ্চিন্তার বিষয়।
দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এএসএম সোহরাব আল হোসাইন বলেন, গত দুই মাস নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কিছু ভ্যাকসিন কেনা হয়েছিল, সেগুলোও শেষ হয়ে গেছে। ভ্যাকসিন সংকটের বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।