নওগাঁর মান্দা উপজেলার কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের নাপিতপাড়া ও পার-কুলিহার মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নামে ইজারা নেওয়া নাপিতপাড়া (জলিঙ্গি) বিল সদস্যদের অজ্ঞাতে অন্যের কাছে উপ-ইজারা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রায় ২০০ মৎস্যজীবী পরিবার মাছ শিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয়রা।
বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে নাপিতপাড়া গ্রামের সড়কে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিক্ষোভকারীরা একটি মিছিল নিয়ে গ্রামের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। এ সময় বিলটি পুনরায় সমিতির নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে দিতে স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি জানান তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের নাপিতপাড়া (জলিঙ্গি) বিলের খাস জমির পরিমাণ ৯ দশমিক ৩৬ একর। বর্ষা মৌসুমে পানির বিস্তারের কারণে বিলটির আয়তন প্রায় ২০ একরে পৌঁছে। উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি ১৪৩১ থেকে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৮৭৫ টাকায় বিলটি নাপিতপাড়া ও পার-কুলিহার মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের অনুকূলে ইজারা দেয়।
মৎস্যজীবীদের দাবি, সমিতির সদস্যদের চাঁদার টাকায় বিলে মাছ চাষ করা হয়েছে। পাশাপাশি এলাকার অন্তত ২০০টি পরিবার ওই বিলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। তাদের অভিযোগ, সমিতির সদস্যদের প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা আমানত এবং দুই বছরের মাছ চাষের লভ্যাংশ সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনের কাছে রয়েছে।
তাদের আরও অভিযোগ, চলতি বর্ষা মৌসুমে বিলের বিভিন্ন কুয়ায় প্রায় পাঁচ লাখ টাকার বিভিন্ন প্রজাতির মাছ অবমুক্ত করা হয়। পরে সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন সদস্যদের না জানিয়ে কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের আন্ধারিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মিলন হোসেনের কাছে মাছসহ বিলটি উপ-ইজারা দেন।
মৎস্যজীবীদের ভাষ্য, উপ-ইজারা নেওয়ার পর বিলটির চারপাশ নেটজাল দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। ফলে স্থানীয় জেলেরা সেখানে মাছ ধরতে পারছেন না এবং জীবিকা সংকটে পড়েছেন।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে নাপিতপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মনজুর আলী অভিযোগ করেন, সমিতির নামে বিল ইজারা নেওয়া হলেও আয়-ব্যয়ের হিসাব না দিয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করছেন।
মৎস্যজীবী সাইদুর রহমান বলেন, সদস্যদের না জানিয়ে গোপনে বিলটি সাবলিজ দেওয়ায় তারা মাছ ধরার অধিকার হারিয়েছেন। এতে পরিবার নিয়ে তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাহেব আলী, মনজুর আলী মিস্ত্রি, সাইদুর রহমান, নায়েব আলী ও রুবেল হোসেন।
অভিযোগের বিষয়ে সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
অন্যদিকে বিলের উপ-ইজারাগ্রহীতা মিলন হোসেন জানান, তিনি সমিতির নেতাদের কাছ থেকে বিলটি সাবলিজ নিয়ে মাছ চাষ করছেন এবং ইতোমধ্যে সেখানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। তবে সাবলিজ বৈধ কি না—এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
এ বিষয়ে উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না। তবে মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নামে ইজারা নেওয়া জলমহাল সাবলিজ দেওয়ার সুযোগ নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।