খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানার দারুল আমান মহল্লায় আলোচিত ট্রিপল মার্ডার মামলায় প্রধান আসামি রফিকুল ইসলাম হাওলাদার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
শনিবার (৬ জুন) তাকে খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক মো. ফরিদুজ্জামান তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে শুক্রবার (৫ জুন) সকালে বরিশালের কাশিপুর এলাকা থেকে র্যাব-৬ তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং আদালতে স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তদন্ত কর্মকর্তার বরাতে জানা যায়, ঈদের দিন রাতে পারিবারিক বিরোধের জেরে রফিকুল ইসলামকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরদিন সকালে তিনি আবার ওই বাড়িতে ফিরে আসেন। এ সময় শাশুড়ি বেবী বেগমের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন তিনি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হয়ে যাওয়ায় শিশু শামীমকে এবং পরে আরেক শিশু মুস্তাকিমকেও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহগুলো ঘরের ভেতরে বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে রেখে তিনি দরজা তালাবদ্ধ করে স্থান ত্যাগ করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনার পর নিহতদের স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করলে রফিকুল বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। পরে ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হলে বিষয়টি সন্দেহজনক হয়ে ওঠে। তালা কাটার উদ্যোগের আগেই তিনি পালিয়ে যান।
প্রসঙ্গত, গত ৩০ মে খুলনার সোনাডাঙ্গা এলাকার একটি বাড়ি থেকে বেবী বেগম (৬৫), তার নাতি শামীম (১৩) ও মুস্তাকিম (৪)-এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।