চিনি বা শর্করা কমানো স্বাস্থ্যের জন্য বহুমুখী উপকার বয়ে আনতে পারে বলে জানাচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের ফলে ওজন বৃদ্ধি, রক্তে শর্করার ভারসাম্যহীনতা, হৃদরোগ ও টাইপ–২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে। এসব ঝুঁকি কমাতে বর্তমানে অনেকেই ৩০ দিনের ‘চিনি কমানোর চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণ করছেন।
এই চ্যালেঞ্জে অংশগ্রহণকারীরা সাধারণত ৩০ দিনের জন্য সব ধরনের যোগকৃত বা প্রসেসড চিনি এড়িয়ে চলেন। এর মধ্যে রয়েছে চিনি মেশানো পানীয়, মিষ্টান্ন, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও অতিরিক্ত মিষ্টিযুক্ত স্ন্যাকস। তবে ফল, সবজি ও দুগ্ধজাত খাবারে থাকা প্রাকৃতিক চিনি সাধারণত এই চ্যালেঞ্জে অনুমোদিত থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চিনি কমানোর সবচেয়ে বড় সুফল হলো রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা। এতে টাইপ–২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। একই সঙ্গে চিনি সমৃদ্ধ খাবার সাধারণত উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত হলেও পুষ্টিগুণ কম থাকে। ফলে চিনি কমালে ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।
চিনি বেশি খেলে দাঁতের ক্ষয়, মাড়ির সমস্যা ও মুখের নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ে। ৩০ দিনের চ্যালেঞ্জে চিনি কমালে দাঁতের স্বাস্থ্য উন্নত হয়। পাশাপাশি অতিরিক্ত চিনি লিভারে ফ্যাট জমার কারণ হতে পারে, যা সময়ের সঙ্গে ফ্যাটি লিভার রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। চিনি কমালে লিভারের কার্যকারিতা উন্নত হয় এবং হৃদরোগের ঝুঁকিও হ্রাস পায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত চিনি মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। চিনি কমালে মনোযোগ, মুড এবং ঘুমের মান উন্নত হতে পারে। একই সঙ্গে ত্বকের ব্রণ ও প্রদাহ কমাতেও এটি সহায়ক ভূমিকা রাখে।
চ্যালেঞ্জ চলাকালে অনেকেই বুঝতে পারেন কোন খাবার বা পানীয় থেকে অজান্তেই তারা বেশি চিনি গ্রহণ করছেন। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চ্যালেঞ্জ শেষ হলেই আবার আগের মতো অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ করা ঠিক নয়। বরং দীর্ঘমেয়াদে চিনি সীমিত রেখে পুষ্টিকর খাবারের অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে কার্যকর।
৩০ দিনের এই চ্যালেঞ্জ শরীরকে ধীরে ধীরে কম চিনি গ্রহণের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। এতে রক্তচাপ, ওজন, দাঁত, লিভার ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমতে পারে। তবে প্রকৃত সুফল পেতে হলে চ্যালেঞ্জের পরও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: Health Line