রায়পুরে ফসলি জমি কেটে ইটভাটায় মাটি পাচার অব্যাহত

(রায়পুর) লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
রায়পুরে ফসলি জমি কেটে ইটভাটায় মাটি তোলার সময় ভেকু মেশিন ও ট্রাক কার্যক্রম চলমান। ছবি: দৈনিক নতুনচাঁদ
রায়পুরে ফসলি জমি কেটে ইটভাটায় মাটি তোলার সময় ভেকু মেশিন ও ট্রাক কার্যক্রম চলমান। ছবি: দৈনিক নতুনচাঁদ

প্রশাসনের দফায় দফায় অভিযান, জরিমানা ও সতর্কবার্তার পরও লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় ফসলি জমির মাটি কাটা থামানো যাচ্ছে না। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনের পর দিন উর্বর কৃষিজমির উপরিভাগ কেটে ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে জমিতে ৪০ থেকে ৫০ ফুট গভীর বিশাল গর্ত তৈরি হচ্ছে, যা বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে জলাশয়ে পরিণত হয়ে কৃষি উৎপাদনের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে ভেকু মেশিন ও ট্রাক ব্যবহার করে ফসলি জমির মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের অভিযান শেষ হলেই পুনরায় শুরু হয় একই কার্যক্রম। একসময় যেখানে আমন ও বোরো ধানের চাষ হতো, এখন সেখানে শুধু বড় বড় গর্ত আর জমে থাকা পানি দেখা যাচ্ছে।

মাটি বহনের জন্য ছোট-বড় সড়কগুলোতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শতাধিক মাটিবাহী ট্রাক্টর ও ট্রাক। অনভিজ্ঞ চালক ও লক্কড়-ঝক্কড় যানবাহনের কারণে সড়কের ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি ধুলাবালির কারণে পথচারী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।

উপজেলার ৮ নম্বর দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের চরকাছিয়া মোল্লাকান্দি বিল এলাকায় অবস্থিত মন্তাজ ব্রিকফিল্ডে গত এক সপ্তাহ ধরে দুটি ভেকু মেশিন দিয়ে ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ইটভাটা মালিক ও একটি প্রভাবশালী চক্রের যোগসাজশে এই মাটি কাটা অব্যাহত রয়েছে।

মন্তাজ ব্রিকফিল্ডের ম্যানেজার মো. তৌয়ব বলেন, ‘ইটভাটার প্রধান কাঁচামাল মাটি। আমরা মাটির ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেই মাটি কিনি। কিছু ফসলি জমি থেকে গভীরভাবে মাটি কাটার কারণে গর্ত ও জলাশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। এসব জমি থেকে মাটি অনেক আগে থেকেই কাটা হচ্ছিল।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, ‘ফসলি জমির মাটি কাটার খবর পাওয়া মাত্রই দিন-রাত যেকোনো সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকজন মাটি ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে এবং ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। রাতের আঁধারে অপকর্ম চালানো চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সম্পর্কিত