লক্ষ্মীপুরে তরুণ সংবাদকর্মী তারেক মাহমুদের ওপর মব সৃষ্টি করে হামলার ঘটনায় দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিরা হলেন—কিরন ও শাহীন। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে তাদের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী।
এর আগে, শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে জেলা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। সন্ত্রাসী কায়দায় সংঘটিত এই হামলায় গুরুতর আহত হন সাংবাদিক তারেক মাহমুদ।
আহত তারেক মাহমুদ দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার, স্থানীয় অনলাইন গণমাধ্যম লক্ষ্মীপুর টাইমস-এর স্টাফ রিপোর্টার এবং যমুনা টেলিভিশনের লক্ষ্মীপুর জেলার ক্যামেরা পার্সন হিসেবে কর্মরত। বর্তমানে তিনি লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সহকর্মীদের কাছে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তারেক মাহমুদ জানান, তিনি মোটরসাইকেলযোগে লক্ষ্মীপুর শহর থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় হঠাৎ এক অপরিচিত ব্যক্তি তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুটি রিকশাযোগে আরও কয়েকজন এসে মব সৃষ্টি করে তার ওপর হামলা চালায়।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করে। একপর্যায়ে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায় এবং স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি প্রাণে রক্ষা পান।
এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় বিএনপি কর্মী কিরন ও ওয়াহিদ এই হামলার নেতৃত্ব দেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে কিরন ও শাহীনকে আটক করে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এই হামলার ঘটনায় আহত সাংবাদিক তারেক মাহমুদ দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে জেলার কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তারা অবিলম্বে সব হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।
হামলার ঘটনার পর আহত সাংবাদিককে দেখতে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে যান লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত সভাপতি আ. হ. ম. মোস্তাকুর রহমান। এ ছাড়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রেজাউল হক।