লক্ষ্মীপুরে ১৬৭ ইটভাটার মধ্যে লাইসেন্স মাত্র ৬৬

স্টাফ রিপোর্টার
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুর জেলায় কার্যক্রম চালানো ১৬৭টি ইটভাটার মধ্যে মাত্র ৬৬টির লাইসেন্স রয়েছে। বাকি ৯৫টি ইটভাটা প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ করে’ অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে একদিকে সরকার বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে উর্বর কৃষিজমি ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত জেলার অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে ২৭টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এতে ৫৮টি ইটভাটায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয় এবং ৪১টি ভাটাকে জরিমানা করা হয়।

তবে অভিযোগ রয়েছে, অভিযানের কয়েকদিন পরই ভেঙে ফেলা ভাটাগুলো আবারও কার্যক্রম শুরু করে। স্থানীয়দের দাবি, লাইসেন্স না থাকলেও প্রতি মৌসুমে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা দিয়ে এসব ইটভাটা চালু রাখা হয়। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রামগতি উপজেলা ও কমলনগর উপজেলা-এ মোট ৫৮টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র দুটি ভাটার লাইসেন্স রয়েছে। বাকি ৫৬টি ইটভাটা সম্পূর্ণ অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

অবৈধ ইটভাটা বন্ধের দাবিতে আশরাফুল আলম নামে এক ব্যক্তি উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করেন। শুনানি শেষে আদালত অবৈধ ইটভাটা বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। পরে পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসন সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহযোগিতায় কয়েকটি স্থানে অভিযান চালায়। তবে অভিযোগ রয়েছে, অভিযানের কিছুদিন পরই ভাটাগুলো আবারও চালু হয়ে যায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ অবৈধ ইটভাটা উর্বর কৃষিজমি নষ্ট করে স্থাপন করা হয়েছে। কোথাও কোথাও স্বল্প উচ্চতার টিনের চিমনি ব্যবহার করা হচ্ছে এবং প্রকাশ্যে কাঠ ও মবিল পোড়ানো হচ্ছে। স্থানীয় কৃষিজমির টপ সয়েল কেটে ইট তৈরির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া স্কুল, কলেজ ও আবাসিক এলাকার কাছাকাছিও অনেক ইটভাটা গড়ে তোলা হয়েছে।

এতে একদিকে ফসলি জমি কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে গাছ কেটে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের ফলে বনজ সম্পদও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ইটভাটা মালিক দাবি করেন, তারা লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেও পাননি। তবে প্রতি মৌসুমে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে টাকা দিয়ে তারা ইটভাটা চালিয়ে যাচ্ছেন। মৌসুমের শুরুতে কিছু অভিযান হলেও পরে টাকা দিলে আর কোনো সমস্যা হয় না বলে তারা জানান।

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর লক্ষ্মীপুর শাখার উপপরিচালক হারুনুর রশিদ পাটোয়ারী বলেন, পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া তিনি কোনো অভিযান পরিচালনা করতে পারেন না। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা না থাকায় অনেক সময় উদ্যোগ নিয়েও অভিযান চালানো সম্ভব হয় না।

এদিকে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের তথ্য, অভিযোগ ও লাইব্রেরি শাখার সহকারী কমিশনার জান্নাতুল সিদ্দিকা বলেন, টাকার বিনিময়ে অবৈধ ইটভাটা চালু রাখার অভিযোগ সঠিক নয়। জাতীয় নির্বাচন ও জনবল সংকটের কারণে কিছুদিন অভিযান বন্ধ ছিল।

সম্পর্কিত