লক্ষ্মীপুর-এ পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে ফরহাদ হোসেন (৩০) নামে এক অটোরিকশাচালককে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন-অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন— সদর উপজেলার তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্ব চরমনসা গ্রামের বাবুল হোসেনের ছেলে মো. শাকিল, একই এলাকার হাফিজ উল্যাহর ছেলে মো. সজল এবং ফেনী জেলার দাগনভূঁইয়া উপজেলার ছাদেকপুর এলাকার আবুল খায়েরের ছেলে মাহফুজুল ইসলাম মামুন।
নিহত ফরহাদ সদর উপজেলার তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্ব চরমনসা গ্রামের দিদার হোসেনের ছেলে এবং পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন।
নিহতের স্ত্রী নার্গিস আক্তার জানান, পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাত ২টার দিকে এক ব্যক্তি ফোন করে ফরহাদকে বাড়ি থেকে ডেকে নেন। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। ভোরে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে সকালে বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের একটি ফসলি ক্ষেতে তার লাশ পড়ে থাকার খবর পাওয়া যায়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে তাকে হত্যা করা হয়েছে এবং তার ডান চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, পূর্ব চরমনসা এলাকায় ফরহাদকে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা দিদার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তবে কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত পাঁচজনের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।