লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলায় প্রতিপক্ষের হামলায় বসতঘর হারিয়ে হতদরিদ্র একটি পরিবার দুই সপ্তাহ ধরে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে মামলা করার পর আসামি পক্ষের হুমকি-ধমকিতে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে কমলনগর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে উপজেলার চরফলকন জাজিরা এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলামের পরিবার এ অভিযোগ করে।
সংবাদ সম্মেলনে নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী রফিকেন নেছা, মেয়ে বিবি ফাতেমা, শাশুড়ি মেরাজুল বেগমসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিবারের অভিযোগ, ওয়ারিশি চার শতক জমি নিয়ে প্রতিবেশী আবুল কাশেমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। একাধিক সালিশি বৈঠকের পর গত বছরের ২৫ এপ্রিল স্থানীয় গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে জমি পরিমাপ করে দুই শতক জমি নজরুলদের পক্ষে রায় দেওয়া হয় এবং উভয় পক্ষ লিখিতভাবে তা মেনে নেয়।
নজরুল ইসলাম জানান, চলতি বছরের ২ এপ্রিল সকালে বসতঘরের পাশে বারান্দা নির্মাণ করতে গেলে প্রতিপক্ষ বাধা দেয়। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে কাশেমের লোকজন হামলা চালিয়ে তাকে ও তার পরিবারের কয়েকজনকে মারধর করে আহত করে এবং শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
তিনি আরও জানান, সেদিন রাতেই পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে না থাকার সুযোগে প্রতিপক্ষের লোকজন আবার হামলা চালিয়ে তাদের বসতঘর ভেঙে ফেলে। এ সময় ঘরে থাকা প্রায় ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা ও আড়াই ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর থানায় গেলেও পুলিশ তাদের প্রত্যাশিত সহযোগিতা দেয়নি। বরং প্রতিপক্ষের দায়ের করা মামলায় নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অন্যদেরও ভয়ভীতি দেখানো হয়।
পরবর্তীতে আদালতে করা মামলায় ১৬ জন আসামির মধ্যে দুইজনকে কারাগারে পাঠানো হলেও তিনদিন পর তারা জামিনে মুক্ত হন। এরপর থেকেই আসামিরা পরিবারটিকে হত্যা ও গুমের হুমকি দিচ্ছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
বর্তমানে বসতঘর না থাকায় নজরুলের পরিবারটি নিজেদের ভিটাতেই খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। এতে তারা চরম মানবিক সংকটে পড়েছেন বলে জানান।
নজরুল ইসলাম বলেন, “আমার ঘর ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি নগদ টাকা লুট করা হয়েছে। এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের টাকাও নিয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে দিশেহারা অবস্থায় আছি।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আবুল কাশেমের ছেলে সজীব বলেন, “বসতঘরে হামলা বা লুটপাটের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমাদের ফাঁসানোর জন্য এসব নাটক করা হচ্ছে।”
এ বিষয়ে কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদুল আলম বলেন, “উভয় পক্ষই থানায় মামলা দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ সঠিক নয়।”