লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় চলতি মাসে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল পেয়ে বিপাকে পড়েছেন হাজারো গ্রাহক। কারও বিল দ্বিগুণ, কারও তিনগুণ, আবার কারও ক্ষেত্রে পাঁচগুণ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়।
ভুক্তভোগী গ্রাহক আলাউদ্দিন জানান, গত মাসে তার বিদ্যুৎ বিল ছিল ৬৭৭ টাকা। অথচ চলতি মাসে এসেছে ২ হাজার ৩৭৭ টাকা। একইভাবে বেলাল হোসেনের ৩০০ টাকার বিল বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭০০ টাকায়।
স্থানীয় বাসিন্দা আদনান শরীফ বলেন, গত মাসে তার বিদ্যুৎ বিল ছিল ১ হাজার ৫০০ টাকা, যা এ মাসে বেড়ে হয়েছে ৭ হাজার ১৯০ টাকা। এছাড়া মোস্তাফিজুর রহমানের ৫০০ টাকার বিল বেড়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং আওলাদ হোসেনের ৪৫০ টাকার বিল বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৮০০ টাকা।
গ্রাহকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ ব্যবহারে তেমন কোনো পরিবর্তন না থাকলেও চলতি মাসে অস্বাভাবিক বিল এসেছে। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ জানাতে গেলে অনেকেই হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তারা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেক গ্রাহক তাদের বিদ্যুৎ বিলের কপি প্রকাশ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। কেউ কেউ মিটার রিডিংয়ের অসংগতি ও গড় বিল করার অভিযোগ তুলেছেন। পাশাপাশি নিয়মিত লোডশেডিংয়ের মধ্যেও কীভাবে এত বেশি বিল এসেছে, সে প্রশ্নও তুলছেন তারা।
কমলনগর উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার প্রায় ৬১ হাজার গ্রাহক পল্লী বিদ্যুতের আওতায় রয়েছেন। চলতি মাসে অধিকাংশ গ্রাহকের বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় গত তিন দিন ধরে বিভিন্নভাবে প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে। তারা দ্রুত বিল যাচাই, সঠিক মিটার রিডিং অনুযায়ী সংশোধিত বিল প্রস্তুত এবং সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কমলনগর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে মিটার রিডিংয়ের ভুল বা সমন্বয়ের কারণে বিল বেশি আসতে পারে। অভিযোগ পেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে। তিনি গ্রাহকদের বিলের সঙ্গে মিটারের রিডিং মিলিয়ে দেখারও পরামর্শ দেন।