লক্ষ্মীপুরে জুলাই আন্দোলনে বৈষম্যবিরোধী পাঁচ শিক্ষার্থী হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ আহম্মদ পাটওয়ারী জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
গ্রেফতারের এক বছর ৮ মাস পর রোববার (১৭ মে) বিকেল ৩টার দিকে তিনি লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হত্যাসহ একাধিক মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেলেও সৈয়দ আহম্মদ পাটওয়ারী তিনবার জেলগেট থেকে পুনরায় গ্রেফতার হন। সবশেষ বৃহস্পতিবার (১৫ মে) সন্ধ্যায় রামগঞ্জের থানা পোড়ানো মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। এরপর জেলগেট থেকেই আবার তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সৈয়দ আহম্মদ পাটওয়ারী লক্ষ্মীপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক। তিনি লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাঞ্চানগর এলাকার বাসিন্দা। ২০২৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর বাঞ্চানগর এলাকার নিজ বাসা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট জেলা শহরে জুলাই আন্দোলনে পাঁচ হত্যার ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা, পুলিশের করা একটি মামলা এবং রামগঞ্জ থানা পোড়ানোসহ একাধিক মামলায় তিনি কারাগারে ছিলেন।
আহম্মদ পাটওয়ারীর ছেলে তৌহিদুল ইসলাম সিয়াম বলেন, ‘আব্বু জামিন পেয়েছেন। তাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’
লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার নুর মোহাম্মদ সোহেল বলেন, থানা পোড়ানোর একটি মামলায় সৈয়দ আহম্মদ উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। পরে রামগঞ্জের একটি মামলায় তাকে সাক্ষী হিসেবে দেখানো হয়েছিল। ওই ঘটনায় আদালত তাকে আটক দেখাননি। বিকেলে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় শহরের ঝুমুর-মাদাম ব্রিজ ও তমিজ মার্কেট এলাকায় চার শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এ ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থী আফনান পাটওয়ারীর মা নাছিমা আক্তার ও সাব্বির হোসেন রাসেলের বাবা আমির হোসেন সদর মডেল থানায় পৃথক মামলা দায়ের করেন। একইদিন পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় আরও একটি মামলা হয়, যেখানে সৈয়দ আহম্মদ পাটওয়ারী এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন।